—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের সিংড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের পক্ষ নেওয়ায় মারিয়া বেগম (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা মাকে গলা টিপে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তার ছোট ছেলের বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ প্রথমে টয়লেটে লুকিয়ে রাখা হয় এবং পরে পচন ধরলে নাতির সহযোগিতায় বস্তাবন্দী করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।
এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করে আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুর ১২টায় সিংড়া থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ছেলে জনাব আলী (৫৫) ও তার ছেলে (নাতি) আল আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মৃত মারিয়া বেগম ওরফে শরিফা বেগমের দুই ছেলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি একটি পারিবারিক বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। সে সময় মা মারিয়া বেগম বড় ছেলে শহিদুলের পক্ষ নিয়ে কথা বলেন। এতেই মায়ের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ছোট ছেলে জনাব আলী।
হত্যাকাণ্ড ও মরদেহ গুমের লোমহর্ষক বিবরণ:
পুলিশ সুপার জানান, ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে ঘটনার দিন রাত ৯টার দিকে জনাব আলী তার বৃদ্ধা মাকে গলা টিপে হত্যা করেন। হত্যার পর অপরাধ গোপন করতে তিনি মায়ের মরদেহ বাড়ির পাশের একটি টয়লেটে লুকিয়ে রাখেন। এভাবে কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর মরদেহে পচন ধরে চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াতে শুরু করে। অবস্থা বেগতিক দেখে জনাব আলী তার ছেলে আল আমিনের সহযোগিতা নেন। পরে দুজনে মিলে মরদেহটি বস্তাবন্দী করে পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন।
নিখোঁজ জিডি থেকে মরদেহ উদ্ধার:
এদিকে মা-কে কোথাও খুঁজে না পেয়ে গত ৬ জুন নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম সিংড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। জিডির সূত্র ধরে তদন্তে নামে পুলিশ। গত ৯ জুন উপজেলার আগপাড়া এলাকার ওই ডোবা থেকে মারিয়া বেগমের অর্ধগলিত বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আইনি পদক্ষেপ ও গ্রেপ্তার:
মরদেহ উদ্ধারের পর সন্দেহের তালিকায় থাকা ছোট ছেলে জনাব আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়। পুলিশের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি নিজের মাকে নির্মমভাবে খুন করার কথা স্বীকার করেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ও তার ছেলে আল আমিনকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে সিংড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের ইতিমধ্যেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পারিবারিক কলহ যে কতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, এই ঘটনা যেন তারই এক নির্মম দৃষ্টান্ত।