—ছবি মুক্ত প্রভাত
নাটোরের সিংড়ায় নিখোঁজের দীর্ঘ ১৫ দিন পর মরিয়ম বেগম ওরফে শরিফা বেগম (৭৮) নামের এক বৃদ্ধার অর্ধগলিত বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৯ জুন) বিকেলে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের আগপাড়া শেরকোল গ্রামে বাড়ির সামনের একটি পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। পুকুরে কচুরিপানার ভেতর মুখ বাঁধা প্লাস্টিকের বস্তায় লাশটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
নিহত মরিয়ম বেগম ওই গ্রামের মৃত মোজাহার আলী সরদারের স্ত্রী।
বাজার করতে গিয়ে নিখোঁজ, এরপর...
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মে দুপুরের পর নিজ বাড়ি থেকে পার্শ্ববর্তী বন্দর বাজারের উদ্দেশ্যে বের হন মরিয়ম বেগম। এরপর আর তিনি ঘরে ফেরেননি। আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজের ১২ দিন পর গত ৬ জুন তার মেয়ে মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে সিংড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) করেন।
কুকুরের টানাটানি ও দুর্গন্ধেই মিলল সন্ধান
মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে আগপাড়া শেরকোল গ্রামে নিহতের বাড়ির ঠিক সামনেই নাসির উদ্দিনের একটি পুকুরে কচুরিপানার মধ্যে সাদা রঙের মুখ বাঁধা একটি বস্তা ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। বস্তাটি থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল এবং কয়েকটি কুকুর সেটি টেনে হিঁচড়ে ডাঙায় তোলার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে সিংড়া থানা পুলিশকে খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তার মুখ খুলে নিখোঁজ বৃদ্ধা মরিয়ম বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ সনাক্ত করে।
হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতা দেখে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাকে শ্বাসরোধ বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।
"খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশ ইতিপূর্বেই তদন্ত শুরু করেছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হবে।"
— রফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সিংড়া থানা।
বৃদ্ধাকে কেন এবং কারা এভাবে নির্মমভাবে হত্যা করল, তা নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।