—ছবি মুক্ত প্রভাত
পাবনার চাটমোহরে ভেজাল দুধের বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়ার জেরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হাশেম প্রামাণিকের খুনিদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে এলাকা। মূল হোতা ভেজাল দুধ উৎপাদনকারী ও বহিষ্কৃত রাজনৈতিক নেতা আব্দুল মমিন ও তার সহযোগীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ।
মঙ্গলবার (৯ জুন) সকাল ১১টায় উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটাবাড়িয়া বাজারে ঘণ্টাব্যাপী এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
খুনিরা প্রকাশ্য ঘুরলেও পুলিশের নীরবতার অভিযোগ
মানববন্ধনে নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে। ব্যানার-ফেস্টুন হাতে নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন নিহতের স্ত্রী জহুরা বেগম, তার অবুঝ শিশু সন্তান আবু বক্কর সিদ্দিক, স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম, সাইজুদ্দিন ও জাহাঙ্গীর সরকারসহ আরও অনেকে।
বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি আব্দুল মমিন এখনো এলাকায় বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং তার অবৈধ ভেজাল দুধের ব্যবসাও সচল রেখেছে। পুলিশ রাতে এসে মমিনের বাড়িতে দেখা করে চলে যায়, কিন্তু তাকে গ্রেফতার করছে না।" উপরন্তু, আসামিরা মামলা তুলে নিতে বাদী ও তার পরিবারকে ক্রমাগত হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ঘটনার নেপথ্যে: ভেজাল দুধের সিন্ডিকেট ও নৃশংস হামলা
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, নটাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল মমিন দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাসায়নিক উপাদান দিয়ে ভেজাল দুধ তৈরি ও বাজারজাত করে আসছিল। এই অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকে (এনএসআই) তথ্য দেওয়ার সন্দেহে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মমিন গং।
গত ২৯ মে (ঈদের পরের দিন) সকালে নটাবাড়িয়া বাজারে হাশেম প্রামাণিক ও তার স্বজনদের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালানো হয়। হামলায় হাশেম প্রামাণিকসহ ৭ জন গুরুতর আহত হন।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা হাশেম প্রামাণিক গত ৪ জুন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তার অপর ভাই হাজু প্রামাণিক এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন।
এ ঘটনায় মমিনসহ ১০ জনকে আসামি করে চাটমোহর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
"ভেজাল দুধ তৈরি ও বিক্রির অপরাধে এর আগেও চাটমোহর থানা পুলিশ ও ইউএনও আঃ মমিনকে একাধিকবার জরিমানা করেছেন। তার বাবা ও এক সহযোগী বর্তমানে জেলহাজতে থাকলেও, মমিন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং এবার সে মানুষ খুন করল।"
— বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অলিউর রহমান জানান, "মামলা দায়েরের পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শহীদ হোসেন নামে এক আসামিকে আটক করা হয়েছে। মূল হোতা আব্দুল মমিনসহ অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।"
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুরো নটাবাড়িয়া এলাকায় চরম উত্তেজনা ও শোকের ছায়া বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আলটিমেটাম—দ্রুত মূল হত্যাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ডাক দেওয়া হবে।