—ছবি মুক্ত প্রভাত
শীতের রাতে মশার কয়েল থেকে ছড়ানো আগুনে নাটোরের বড়াইগ্রামে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জোয়াড়ী ইউনিয়নের কৈডিমা গ্রামে সাবেক বিজিবি সদস্য মোহাম্মদ ওয়াজদে আলীর বসতবাড়ি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও মূল্যবান কাগজপত্রসহ প্রায় ২০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একই গ্রামের মো. হাবিবুর রহমানের ছাগল রাখার ঘরে মশা তাড়ানোর জন্য একটি কয়েল জ্বালানো হয়েছিল। গভীর রাতে সেই কয়েল থেকেই আকস্মিক আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের সাবেক বিজিবি সদস্য ওয়াজদে আলীর বসতবাড়িতে।
আগুনের লেলিহান শিখা নিমেষেই বাড়ির ছয়টি কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত থাকা পরিবারের সদস্যরা কোনোমতে প্রাণে রক্ষা পেলেও চোখের পলকে পুড়ে ছাই হয়ে যায় সারা জীবনের সঞ্চয়। ঘরের আসবাবপত্র, পরিধেয় বস্ত্র, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও নগদ অর্থসহ সব হারিয়ে পরিবারটি এখন খোলা আকাশের নিচে এসে দাঁড়িয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান:
"খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রত্যন্ত এলাকা এবং ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় ততক্ষণে বাড়ির অধিকাংশ মালামাল পুড়ে যায়।"
ভয়াবহ এই মানবিক বিপর্যয়ের খবর পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা:
এমপির পরিদর্শন ও সহায়তা: নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আব্দুল আজিজ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
শনিবার দুপুরে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস ঘটনাস্থলে যান। তিনি পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুকনো খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করেন এবং সরকারিভাবে বড় ধরনের সহায়তার আশ্বাস দেন। জোয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আকবর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির হাতে নগদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক অনুদান তুলে দেন।
সারা জীবনের উপার্জনে গড়া ঘরবাড়ি হারিয়ে সাবেক এই বিজিবি সদস্যের পরিবার এখন চরম সংকটে। এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। পরিবারটিকে দ্রুত পুনর্বাসনের জন্য সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।