—ছবি মুক্ত প্রভাত
লোকসংগীতের সুরে যিনি মেটান শ্রোতাদের মনের ক্ষুধা, সেই সুরসাধকের ব্যক্তিজীবনকে টেনে এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষবাষ্প ছড়ানোর এক নিকৃষ্ট চেষ্টা উন্মোচিত হলো। চট্টগ্রামের জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী দীপ্র বড়ুয়াকে নিয়ে ফেসবুকে মানহানিকর ও ধর্মীয় উস্কানিমূলক পোস্ট করার অভিযোগে হাটহাজারীর এক যুবকের বিরুদ্ধে পাঠানো হয়েছে লিগ্যাল নোটিশ।
মুক্ত সংস্কৃতির এই জমানায় বাকস্বাধীনতার নামে এমন নোংরা সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে আইনি এই পদক্ষেপ যেন এক ‘মুক্ত প্রভাত’— যা অন্ধকার মানসিকতার বিরুদ্ধে এক তীব্র চপেটাঘাত।
ঘটনার সূত্রপাত: অসুস্থতা নিয়ে কুৎসিত রাজনীতি
ঘটনাটি সদ্যসমাপ্ত ঈদুল আজহার। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হলেও সকল ধর্মের প্রতি সমান শ্রদ্ধা রাখা শিল্পী দীপ্র বড়ুয়া ঈদে গরুর মাংস খাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকেই নিজের সুস্থতার জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের দোয়া ও প্রার্থনা চেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থার একটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি।
মানুষের অসুস্থতা নিয়েও যে কদর্য ট্রল আর ধর্মীয় উস্কানি ছড়ানো যায়, তা প্রমাণ করলেন হাটহাজারীর ঝোটন নন্দী নামের এক যুবক। শিল্পীর ওই ছবিটিকে পুঁজি করে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু করেন কুৎসিত মন্তব্য ও ধর্মীয় বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা।
আইনি নোটিশ: ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম
সোমবার (৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বিশাল দাশ গুপ্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত ঝোটন নন্দীকে এই লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে যা বলা হয়েছে:
দীপ্র বড়ুয়া একজন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মানুষ। তিনি সকল ধর্মের প্রতি ভক্তি ও শ্রদ্ধা রেখে গানবাজনা করেন। ঝোটন নন্দীর করা বিভ্রান্তিকর পোস্ট এবং তা শেয়ার-রি-শেয়ার হওয়ার কারণে শিল্পীর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত সুনাম চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।
নোটিশে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সব ধরনের আপত্তিকর পোস্ট, ভিডিও ও মন্তব্য মুছে ফেলতে হবে এবং প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।
অন্যথায় দেশের প্রচলিত আইনে ওই যুবকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। একজন শিল্পীর ব্যক্তিজীবন আর অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় বলির পাঁঠা বানাতে চায়, এই লিগ্যাল নোটিশ তাদের জন্য একটি শক্ত বার্তা। মুক্ত বাতাসে নিশ্বাস নিতে হলে এই ধরনের সাইবার অপরাধীদের আইনি খাঁচায় বন্দি করা এখন সময়ের দাবি।