—ফাইল ছবি
নাটোরের সিংড়ায় কৃষকের সেচ মোটর ও ট্রান্সফরমার চুরির উপদ্রব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। সর্বশেষ শনিবার রাতে উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের রাতাল মাঠ থেকে ৪ জন সেচ গ্রাহকের ৪টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে উপজেলার উত্তর দমদমা, কয়ড়াবাড়ি, বুড়িকদমা, বিজয়নগর ও ইন্দ্রাসনসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। একের পর এক এমন চুরির ঘটনায় পুরো চলনবিল অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শনিবার রাতে রাতালের মাঠ থেকে যে চারজন কৃষকের ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে তারা হলেন— ইউনুস আলী (৫৫), মোহাম্মদ আলী (৬০), শাজাহান আলী (৬৫) এবং আবদুস সালাম বেগ (৫৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার সকালে কৃষক ইউনুস আলী নিজের জমিতে সেচ দিতে মাঠে গিয়ে দেখতে পান, তাঁর সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমারটির ভেতরের মূল্যবান অংশ গায়েব এবং খোলসটি মাটিতে পড়ে আছে। এরপর আশপাশে খোঁজ নিয়ে একে একে অপর তিন কৃষকের ট্রান্সফরমারও একই অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। চোরচক্র রাতের আঁধারে ট্রান্সফরমারের ভেতরের মূল্যবান তামার তার ও যন্ত্রাংশ লুটে নিয়ে গেছে।
ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানান, চুরির হাত থেকে বাঁচতে অনেক গ্রামে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে রাত জেগে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন। যে সব গ্রামে পাহারার ব্যবস্থা নেই, মূলত সেসব গ্রামকেই টার্গেট করছে চোরচক্র।
এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর সিংড়া জোনাল অফিসের এজিএম (ওঅ্যান্ডএম)/জোনাল ম্যানেজার শাহাদাত হোসেন জানান, "চলনবিল এলাকায় চলতি বছরে এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশতাধিক সেচ মোটর ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি চুরির ঘটনার পরই আমরা থানা পুলিশকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। তবে চুরির মালামাল উদ্ধার বা চোরচক্রকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে এখনো কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি।"
চলতি সেচ মৌসুমে এভাবে একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ায় একদিকে যেমন কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন, অন্যদিকে সময়মতো মাঠে পানি দিতে না পারায় ফসল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষকেরা দ্রুত এই চোরচক্রকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধারে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।