—ছবি সংগৃহিত
টানা দুই আসরের রাজত্ব শেষে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। ঘরের মাঠে অনূর্ধ্ব-২০ নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ১-৩ গোলে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে সাবিনা-ঋতুপর্ণাদের। এই জয়ের মধ্য দিয়ে মেয়েদের সাফে আবারও নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল ক্রিসপিন ছেত্রীর শিষ্যরা।
মেয়েদের সাফের প্রথম পাঁচ আসরে টানা চ্যাম্পিয়ন হয়ে একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল ভারতের। তবে ২০২২ ও ২০২৪ সালের ষষ্ঠ ও সপ্তম আসরে ভারতকে স্তব্ধ করে টানা দুবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল বাংলাদেশ। এবার সেই খোয়ানো সিংহাসন পুনরুদ্ধার করে ষষ্ঠবারের মতো সাফের মুকুট নিজেদের করে নিল ভারতীয় মেয়েরা।
প্রথমার্ধে লড়াই, ঋতুপর্ণার সমতা
ম্যাচের শুরু থেকেই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের রোমাঞ্চিত করে তোলে। তবে প্রথমার্ধের ৪২ মিনিটে ডেডলক ভাঙে ভারত। স্বাগতিক ডিফেন্সের স্তব্ধতার সুযোগ নিয়ে ভারতকে প্রথম এগিয়ে নেন পেয়ারি জাজা।
১-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (ইঞ্জুরি টাইম) গ্যালারি কাঁপিয়ে দুর্দান্ত এক গোল করেন বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা। তাঁর এই চোখধাঁধানো গোলে ১-১ সমতায় থেকে বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয় বাউন্সেই ছিটকে গেল বাংলাদেশ
বিরতি থেকে ফিরেই খেই হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। দ্বিতীয়ার্ধের বাঁশি বাজার মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মাথায়, অর্থাৎ ৪৬ মিনিটে সানফিদার চমৎকার গোলে আবারও লিড নেয় ভারত (২-১)।
এক গোল পিছিয়ে পড়ে সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। কিন্তু স্বাগতিকদের একের পর এক আক্রমণ নসাৎ করে দেয় ভারতের জমাট ডিফেন্স। উল্টো ম্যাচের ৮২ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে লিন্ডা কম গোল করলে বাংলাদেশের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন পুরোপুরি ভেঙে চুরমার হয়ে যায়।
১-৩ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় ভারত। শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথেই উল্লাসে মেতে ওঠে সফরকারীরা। আর ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখতে না পারার হতাশায় ডোবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।