—ছবি সংগৃহিত
লেবাননে ইসরায়েলের তীব্র সামরিক অভিযান ও যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা স্থগিত করেছে ইরান। সোমবার ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘তাসনিম’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর ‘অব্যাহত অপরাধ’ এবং সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের কারণে ইরানের আলোচক দল মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সব ধরনের সংলাপ এবং গোপন নথি আদান-প্রদান বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আলোচনা শুরুর শর্ত
তাসনিম নিউজের তথ্যমতে, ওমান বা অন্যান্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে এই শান্তি আলোচনা পুনরায় চালু করতে তেহরান স্পষ্ট কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অবিলম্বে সম্পূর্ণ বন্ধ করা।
২. দক্ষিণ লেবাননের নব-দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলি সেনাদের দ্রুত প্রত্যাহার।
২০০০ সালের পর গভীরতম অনুপ্রবেশ
এদিকে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর, এই প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) লেবাননের এত গভীরে প্রবেশ করেছে। সোমবার ইসরায়েলি সামরিক কমান্ড লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বড় ধরনের হামলার আগে এলাকা খালি করার জরুরি নির্দেশ দিয়েছে। এতে ওই অঞ্চলে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ইরান ও তার আঞ্চলিক মিত্ররা এবার বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহের মূল ধমনীতে আঘাত হানার হুমকি দিয়েছে। তাসনিম জানিয়েছে, তেহরান বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম ব্যস্ত রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করা এবং লোহিত সাগরের প্রবেশমুখে অবস্থিত ‘বাব আল-মান্দাব প্রণালী’ সহ অন্যান্য সামরিক ফ্রন্টগুলো সক্রিয় করার বিষয়ে ‘দৃঢ় সংকল্প’ নিয়েছে।
মুক্ত প্রভাত বিশ্লেষণ: মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ অবরুদ্ধ হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে, যার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও মূল্যস্ফীতির ওপর। কূটনৈতিক আলোচনা ভেস্তে যাওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে।