—ছবি সংগৃহিত
পবিত্র হজ ব্রত পালন শেষে অফুরন্ত আত্মতৃপ্তি আর আল্লাহর অনুগ্রহের ডালা সাজিয়ে স্বদেশে ফিরতে শুরু করেছেন বাংলাদেশি হাজিরা। গতকাল শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত ১৫টি ফিরতি ফ্লাইটে দেশের মাটিতে পা রেখেছেন মোট ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজী। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য আর স্বজনদের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে একের পর এক অবতরণ করছে হাজিদের বহনকারী বিমানগুলো।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ পোর্টালের আইটি হেল্পডেস্কের সর্বশেষ বুলেটিন থেকে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রথম ফ্লাইটে এলেন ৪৪৫ জন
বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম। জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় রাত ২টা ৪ মিনিটে ৪৪৫ জন যাত্রী নিয়ে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট (এসভি-৫৮০৬) ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়। বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ফ্লাইটটি সফলভাবে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এয়ারলাইন্স ও ব্যবস্থাপনার চিত্র
এখন পর্যন্ত দেশে ফেরা হাজিদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনার ৪১৬ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ৫ হাজার ৭৫৯ জন রয়েছেন। হাজিদের নির্বিঘ্নে ফিরিয়ে আনতে যৌথভাবে কাজ করছে তিনটি এয়ারলাইন্স। এর মধ্যে:
ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স: ৮টি ফ্লাইটে ৩ হাজার ৩০০ জন যাত্রী পরিবহন করেছে।
সৌদি এয়ারলাইন্স: ৪টি ফ্লাইটে ১,৬৯১ জন যাত্রী পরিবহন করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স: ৩টি ফ্লাইটে ১,১৮৪ জন যাত্রী ফিরিয়ে এনেছে।
চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজযাত্রীর কোটা নির্ধারিত ছিল। গত ১৮ এপ্রিল প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু হয়ে শেষ হয় ২১ মে। আর ৩০ মে শুরু হওয়া এই ফিরতি ফ্লাইট কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত।
মক্কা-মদিনায় ৩৭ বাংলাদেশির ইন্তেকাল
এদিকে, হজ পালনের মহৎ উদ্দেশ্যে গিয়ে পবিত্র ভূমিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন ৩৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী। তাদের মৃত্যুতে পরিবার পরিজন এবং সহযাত্রীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মৃতদের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, ইন্তেকাল করা হাজিদের মধ্যে ২৪ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। এর মধ্যে পবিত্র মক্কা নগরীতে ২৭ জন এবং মদিনা মুনাওয়ারায় ১০ জন ইন্তেকাল করেন। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে—জেদ্দা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, দেশে ফেরা হাজিদের স্বাগত জানাতে এবং তাদের জমজমের পানি বিতরণসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রিয়জনদের সুস্থ ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে বিমানবন্দর এলাকায় অপেক্ষারত স্বজনদের চোখে-মুখে দেখা গেছে পরম আনন্দ ও কৃতজ্ঞতার ছাপ।