-ছবি সংগৃহীত
সারাদেশে আশঙ্কাজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশজুড়ে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০টি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই প্রাণ হারিয়েছে ৯ জন এবং বাকি ১ জন মারা গেছে সিলেটে। একই সময়ে নতুন করে আরও ৭৩২টি শিশু এই রোগে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছে, যা দেশের সামগ্রিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর এক বড় ধরনের উদ্বেগের ছায়া ফেলছে।
আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।
২৪ ঘণ্টার পরিসংখ্যান: তীব্র হচ্ছে সংক্রমণ
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় যে ৭ challenge৩২ জন নতুন রোগী পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ৫৮টি শিশুর শরীরে। আর বাকি ৬৭৪ জন শিশুর মধ্যে এই রোগের তীব্র উপসর্গ দেখা দিয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের একটি বড় অংশই বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডগুলোতে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুদের উচ্চ জ্বর, শরীরে লালচে র্যাশ বা দানা ওঠা এবং সেই সঙ্গে তীব্র শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে আসার হার বাড়ছে।
আড়াই মাসে মৃত্যু ছাড়ালো সাড়ে পাঁচশো
গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হামের এই প্রাদুর্ভাবের হিসাব রাখা শুরু হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, গত আড়াই মাসে (১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত) দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট ৫৭৫টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে কেবল হামের উপসর্গ নিয়ে ল্যাব পরীক্ষার আগেই মারা গেছে ৪৮৫ জন শিশু। আর রক্ত পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯০টি শিশু। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৃত্যুর এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ প্রমাণ করে যে মাঠপর্যায়ে টিকাদানের ঘাটতি বা পুষ্টিহীনতার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেছে।
আড়াই মাসের সার্বিক চিত্র একনজরে:
-
মোট উপসর্গযুক্ত রোগী: ৬৮,৫৭৯ জন
-
হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে: ৫৪,৭৯৮ জন শিশু
-
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে: ৫১,৫১১ জন
-
নিশ্চিত হাম শনাক্ত: ৮,৯৪৩ জন
-
মোট প্রাণহানি: ৫৭৫ জন (উপসর্গসহ ৪৮৫, নিশ্চিত ৯০)
হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংকট, উদ্বেগে বিশেষজ্ঞরা
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ পর্যন্ত আক্রান্ত হওয়া শিশুদের মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ অর্থাৎ ৫৪,৭৯৮টি শিশুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। তবে স্বস্তির খবর হলো, এর মধ্যে ৫১,৫১১টি শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একটি আক্রান্ত শিশু থেকে মুহূর্তের মধ্যে অন্য শিশুরা সংক্রমিত হতে পারে। ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ইতিমধ্যেই শিশু রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে চিকিৎসকদের। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আক্রান্ত এলাকার শিশুদের দ্রুত আইসোলেশন নিশ্চিত করা এবং জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান (ক্যাচ-আপ ক্যাম্পেইন) কর্মসূচি চালু করার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা।