—ছবি সংগৃহিত
মরুভূমির তপ্ত বালু আর আকাশের চড়া রোদকে উপেক্ষা করে চারিদিকে শুধু সাদা ইহরামের চাদর। বাতাসে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটাই সুর—‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক’ (আমি হাজির, হে আল্লাহ আমি হাজির)। হজের দ্বিতীয় দিনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা লাখো মুসলমান সমবেত হয়েছেন ঐতিহাসিক আরাফাত ময়দানে, যা হজের সবচেয়ে প্রধান ও আবশ্যিক রোকন হিসেবে বিবেচিত।
এবারের হজে আরাফাত ময়দানের ঐতিহ্যবাহী ‘মসজিদে নামিরাহ’ থেকে বিশ্ব মুসলিমের উদ্দেশ্যে হজের মূল খুতবা প্রদান করেছেন প্রখ্যাত ইসলামিক আলেম শায়খ আলী আল-হুদাইফি। তাঁর প্রতিটি বাণীতে ছিল উম্মাহর ঐক্য, শান্তি এবং মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আত্মসমর্পণের আহ্বান।
এক আজানে দুই নামাজ
হজের খুতবা শেষ হওয়ার পরপরই মসজিদে নামিরাহতে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়। সুন্নাত তরিকা অনুসরণ করে জোহরের ওয়াক্তে কেবল একটি আজান এবং দুটি ইকামতের মাধ্যমে জোহর ও আসরের নামাজ পরপর আদায় করা হয়।
যেসব হাজি দূরত্বের কারণে মূল মসজিদে উপস্থিত হতে পারেননি, তাঁরা নিজ নিজ তাঁবু থেকেই জামাতে অংশ নেন। মুসাফির হিসেবে মুসল্লিরা জোহর ও আসর—উভয় নামাজই চার রাকাতের পরিবর্তে দুই রাকাত করে (কসর) আদায় করেন।
সূর্যাস্ত পর্যন্ত কান্নার রোল
নামাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই আরাফাতের প্রান্তর রূপ নেয় এক আধ্যাত্মিক সমুদ্রে। জাবালে রহমত (রহমতের পাহাড়) ও তার আশেপাশের বিস্তীর্ণ ময়দানে লাখো হাজি দুই হাত তুলে মহান আল্লাহর দরবারে আকুল আবেদন জানাতে থাকেন।
নিজের জীবনের সমস্ত গুনাহ খাতার জন্য ক্ষমা চাওয়া, ইস্তিগফার পড়া আর অশ্রুসিক্ত চোখে আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটির এই সিলসিলা চলে ঠিক সূর্য ডোবা পর্যন্ত।
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই আরাফাতের ময়দানেই মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষমা করে থাকেন। সূর্যাস্তের পর হাজিরা মাগফিরাতের এক অনাবিল প্রশান্তি বুকে নিয়ে পরবর্তী গন্তব্য মুজদালিফার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বিশ্ব মুসলিমের এই মহামিলন যেন আরও একবার প্রমাণ করল—বর্ণ, ভাষা বা ভৌগোলিক সীমানা যতই আলাদা হোক না কেন, স্রষ্টার দরবারে সবাই এক ও অভিন্ন।