—ছবি মুক্ত প্রভাত
সামনে কুরবানির ঈদ। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, তখন দ্রব্যমূল্যের চড়া বাজারে নাটোরের সিংড়ার অনেক নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের কপালে ছিল চিন্তার ভাঁজ। সেইসব সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে ঈদের এক চিলতে হাসি ফোটাতে দেবদূতের মতো এগিয়ে এলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক এম এ সামাদ।
সোমবার (২৫ মে) রাতে উপজেলার শেরকোল ইউনিয়নের তেঁলিগ্রাম এলাকায় তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে আয়োজিত এক মানবিক কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় এক হাজার পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।
ঝকঝকে হাসিতে ঈদের প্রস্তুতি
উত্সবের আনন্দ যেন ঘরে ঘরে পৌঁছায়, সেজন্য প্রতিটি পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে চাল, ডাল, তেল, সেমাই, চিনি ও দুধসহ প্রয়োজনীয় সব খাদ্যসামগ্রী। শুধু খাদ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই আয়োজন; ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে এক হাজার মানুষের মাঝে চমৎকার গেঞ্জিও বিতরণ করা হয়।
উপহার নিতে আসা তেঁলিগ্রামের বাসিন্দা ও অসহায় পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে জানান, বাজারের যে পরিস্থিতি, তাতে এবার ঠিকঠাক ঈদ করা নিয়েই তাঁরা সংশয়ে ছিলেন। এই উপহার তাঁদের সেই চিন্তা দূর করেছে। এখন তাঁরাও সপরিবারে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন।
বিশেষ উপহার: হুইল চেয়ার
এবারের আয়োজনে কেবল ঈদ সামগ্রীই নয়, ছিল এক মানবিক চমক। এলাকার এক অসহায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তির চলাচলের কষ্ট লাঘব করতে এম এ সামাদের পক্ষ থেকে তাকে একটি আধুনিক হুইল চেয়ার উপহার দেওয়া হয়। চেয়ারটি পেয়ে ওই ব্যক্তির চোখে-মুখে ফুটে ওঠে এক পরম তৃপ্তির হাসি।
"ঈদের আনন্দ একা উপভোগ করার মাঝে কোনো সার্থকতা নেই। সমাজের প্রতিটি মানুষের মাঝে এই আনন্দ ছড়িয়ে দিতেই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস। বিত্তবানরা যদি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন, তবে সমাজে কোনো মানুষই ঈদে কষ্টে থাকবে না।"
— এম এ সামাদ, সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী
ভবিষ্যতেও এমন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এই সমাজসেবক। রাতের আঁধারে তেঁলিগ্রামের বুকে বয়ে যাওয়া এই মানবিক হাওয়া যেন পুরো সিংড়াবাসীর মনেই এক পশলা শান্তি এনে দিয়েছে।