—ছবি মুক্ত প্রভাত
বিকেলের বা সন্ধ্যারাত কাটাতে নদীর তীরে অনেকেই হাঁটতে বের হন। কিন্তু সেই প্রাত্যহিক হাঁটার পর্ব যে ভাগ্যবদলের ম্যাজিক হয়ে আসবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার কৃষক মো. নাজিম উদ্দিন। মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি খালে অবহেলায় ছটফট করতে থাকা ২০ কেজি ওজনের একটি দানবাকৃতির কোরাল মাছ হাতেনাতে ধরে এলাকায় রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছেন তিনি। বিরল এই ঘটনাকে স্থানীয় অনেকেই এখন ‘সৌভাগ্যের প্রতীক’ বলে মনে করছেন।
গত রবিবার (২৪ মে) সন্ধ্যায় দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার চরকিং ইউনিয়নের চরবগুলা গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া মেঘনা নদীর তীরবর্তী একটি খালে এই বিশাল মাছটি পাওয়া যায়। ভাগ্যবান ওই কৃষক একই এলাকার আবুল কাশেমের ছেলে।
টর্চের আলোয় মিলল দানবীয় কোরাল
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রবিবার সন্ধ্যার পর বাড়ির পাশের নদীর তীরে নৈশকালীন হাঁটার জন্য বের হন কৃষক নাজিম উদ্দিন। অন্ধকার রাতে খালের অল্প পানির মধ্যে হঠাৎ করেই বড় কোনো কিছুর নড়াচড়া তাঁর নজরে আসে। কৌতূহলবশত হাতের টর্চলাইটের আলো ফেলতেই চোখ চড়কগাছ! খালের কম পানিতে আটকে পড়ে ছটফট করছে এক বিশাল আকৃতির কোরাল মাছ। নাজিম আর দেরি না করে দ্রুত বুদ্ধি খাটিয়ে মাছটি পানি থেকে ডাঙ্গায় তুলে সোজা নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
কৃষক নাজিম উদ্দিন নিজের বিস্ময় চেপে না রেখে বলেন, "নদীর পাড়ে হাঁটার সময় হঠাৎ পানিতে বড় কিছু নড়াচড়া করতে দেখি। কাছে গিয়ে দেখি বিশাল এক কোরাল মাছ। পরে দ্রুত ওটা ধরে ফেলি। এত বড় মাছ জীবনে এই প্রথম নিজের হাতে ধরলাম!"
রাতেই ভিড়, ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি
নদীর তীরে বিশাল কোরাল পাওয়ার খবর মুহূর্তের মধ্যে চরবগুলা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। মাছটি একনজর দেখতে রাতেই নাজিমের বাড়িতে ভিড় জমান শতাধিক উত্সুক মানুষ। পরবর্তীতে স্থানীয়দের অনুরোধে মাছটি চরবগুলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের একটি দোকানে আনা হলে সেখানে রীতিমতো হুলুস্থুল পড়ে যায়। অনেকেই এই বিরল মৎস্য শিকারের মুহূর্তটি মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিওতে বন্দি করে রাখেন।
স্থানীয়দের ধারণা, মেঘনা নদীর জোয়ারের পানির তোড়ে বিশাল আকৃতির এই কোরাল মাছটি খালের ভেতরে ঢুকে পড়েছিল। পরবর্তীতে ভাটার টানে পানি কমে যাওয়ায় সেটি আর নদীতে ফিরতে না পেরে খালের অল্প পানিতে আটকা পড়ে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী জিল্লুর রহমান জানান, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় মাছটি বিক্রির জন্য মূল বাজারে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে গ্রামের কৌতূহলী ও ভোজনরসিক কয়েকজন বাসিন্দা মিলেই ৬০০ টাকা কেজি দরে প্রায় ২০ কেজির মাছটি কিনে নেন। রাতেই ১২ হাজার টাকায় মাছটি বিক্রি করার পর তা কেটে সমান ভাগে ভাগ করে নেন ক্রেতারা।