—ছবি সংগৃহিত
দেশের প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যাতায়াত ব্যবস্থা আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করতে বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এখন থেকে মেট্রোরেল ও রেল ভ্রমণে ভাড়ার ওপর ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব জ্যেষ্ঠ নাগরিক (সিনিয়র সিটিজেন) এবং প্রতিবন্ধী/বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। আগামীকাল সোমবার (২৫ মে, ২০২৬) থেকেই এই সুবিধা কার্যকর হতে যাচ্ছে।
আজ রোববার রেলপথ মন্ত্রণালয় ও মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যৌথভাবে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। আগামীকাল দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেট মেট্রোরেল স্টেশনে সড়ক, রেল ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বিশেষ এই সেবা কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমান সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে প্রতিবন্ধী, শিক্ষার্থী ও সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য ট্রেনের ভাড়া ছাড় সংক্রান্ত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মেট্রোরেলে ছাড়ের নিয়মাবলী:
উত্তরা থেকে কমলাপুর পর্যন্ত চলমান মেট্রোরেলে জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিরা একক যাত্রা টিকিটে ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় পাবেন। সুবিধাটি পেতে কিছু নিয়ম মানতে হবে:
জ্যেষ্ঠ নাগরিক: বয়স অবশ্যই ৬৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে। স্টেশনের কাউন্টারে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) প্রদর্শন করে বয়স যাচাই সাপেক্ষে এই টিকিট কেনা যাবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি: এই সুবিধা পেতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্র থাকতে হবে এবং কাউন্টারে তা প্রদর্শন করতে হবে।
রেলে ছাড়ের নিয়ম ও শর্তাবলী:
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য কাউন্টার এবং অনলাইন উভয় মাধ্যমেই টিকিটে ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে কিছু সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রযোজ্য হবে:
ভিত্তিমূল্যের ওপর ছাড়: ২৫ শতাংশ ছাড় শুধুমাত্র ভাড়ার ভিত্তিমূল্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। সার্ভিস চার্জ, ভ্যাটসহ অন্যান্য চার্জ বিদ্যমান হারেই পরিশোধ করতে হবে।
প্রবীণদের অনলাইন ও কাউন্টার সুবিধা: ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী যাত্রীরা অনলাইন ও কাউন্টার—উভয় মাধ্যমেই টিকিট কাটতে পারবেন। ‘রেলসেবা’ অ্যাপ বা অনলাইনে টিকিট কাটার সময় এনআইডি তথ্যের ভিত্তিতে বয়স স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করা হবে।
কোটা ও সহযাত্রী নীতি: একজন সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহে (যাত্রার তারিখ অনুযায়ী) সর্বোচ্চ দুবার এই ছাড়ের সুবিধা পাবেন। টিকিট ফেরত দিলে সাপ্তাহিক হিসাব থেকে তা বাদ যাবে। প্রবীণ ব্যক্তির সহযাত্রী যদি সাধারণ কেউ হন, তবে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে। তবে সহযাত্রীও প্রবীণ হলে প্রতি বুকিংয়ে সর্বোচ্চ একজন অতিরিক্ত প্রবীণ সহযাত্রী ছাড় পাবেন, যার নিজস্ব নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর দিয়ে আলাদাভাবে ভেরিফায়েড হতে হবে।
প্রতিবন্ধীদের জন্য সুবিধা: সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘সুবর্ণ’ পরিচয়পত্রধারীরা আন্তঃনগর ট্রেনের সুলভ বা শোভন শ্রেণিতে (যেখানে সুলভ নেই সেখানে শোভন চেয়ার) বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী ৫০ শতাংশ ছাড়ের সুবিধা বহাল পাবেন। এর পাশাপাশি নতুন করে সব শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) শ্রেণিতে ২৫ শতাংশ ছাড় পাবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আপাতত সুবিধাটি শুধু স্টেশন কাউন্টার থেকে পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজের সাথে সমন্বয় করে এটি অনলাইনেও চালু করা হবে। পরিচয়পত্রধারী প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সহযাত্রীর ক্ষেত্রে নিয়মিত ভাড়া প্রযোজ্য হবে।
শিক্ষার্থীদের জন্যও আসছে সুখবর:
রেল কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, স্বল্প দূরত্বের কমিউটার ট্রেনে শিক্ষার্থীদের জন্য ‘ইউনিফায়েড পরিচয়পত্র’ চালুর কাজ চলছে। এটি সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের টিকিটের মূল্যেও ২৫ শতাংশ ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।