—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ সমঝোতা আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ইতিবাচক অগ্রগতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। অপরদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগরেহিও গত সপ্তাহে জানান যে, দুই পক্ষের অবস্থান এখন অনেকটাই কাছাকাছি এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ বন্ধের এই সম্ভাব্য চুক্তিতে কী কী শর্ত বা বিষয় থাকতে পারে, সে বিষয়ে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’।
অ্যাক্সিওস এবং ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত চুক্তির মূল বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:
হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ: যুদ্ধবিরতির এই সময়ে বিশ্ববাণিজ্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে। এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের টোল আদায় করা হবে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালি থেকে ইরান সব ধরনের মাইন অপসারণ করবে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অবরোধ প্রত্যাহার: চুক্তির আওতায় ইরানের বিভিন্ন বন্দরে থাকা মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ইরানের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি জ্বালানি তেল বিক্রির ওপর থাকা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় বড় ধরনের ছাড় দেবে ওয়াশিংটন।
পারমাণবিক কর্মসূচি ও ইউরেনিয়াম ত্যাগ: ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিশ্রুতি দেবে যে, তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করবে না। এছাড়া ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি নিয়ে দুই পক্ষ পরবর্তী আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছাবে। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ইরানের বর্তমান সমৃদ্ধ করা ইউরেনিয়াম পুরোপুরি ত্যাগ করার প্রতিশ্রুতিও এই খসড়া প্রস্তাবে রয়েছে।
ইরানের আটকে থাকা তহবিল অবমুক্তকরণ: আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ব্যাংকে অবরুদ্ধ বা ফ্রিজ করে রাখা ইরানের নিজস্ব অর্থ ও তহবিল থেকে দেশটিকে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেবে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন সেনা প্রত্যাহার: খসড়া অনুযায়ী, ৬০ দিনের এই অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চলাকালীন মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে মার্কিন বাহিনী যথারীতি অবস্থান করবে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর ওয়াশিংটন এই অঞ্চল থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে প্রাথমিক এই ৬০ দিনের চুক্তির মেয়াদ আরও বাড়ানো যেতে পারে। তবে এই খসড়া চুক্তির খবরগুলো এখনো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিটি সফল হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা প্রশমন এবং বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের স্বস্তি এনে দেবে।