—ছবি মুক্ত প্রভাত
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে এবং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য ও মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ। ঈদের আগে রাতের আঁধারে তিনি সশরীরে হাজির হলেন এক দরিদ্র ভ্যানচালকের জীর্ণ কুটিরে।
জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌর সদরের নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা হতদরিদ্র ভ্যানচালক আব্দুস সাত্তার। দিন এনে দিন খাওয়া এই ভ্যানচালকের পরিবারে ঈদের আনন্দ যখন অনেকটাই ম্লান, ঠিক তখনই তার জীবনে ঘটে এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। গভীর রাতে হঠাৎ তার দরজায় কড়া নাড়ে কেউ। দরজা খুলতেই আব্দুস সাত্তার দেখতে পান, স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।
কোনো রকম আনুষ্ঠানিকতা বা প্রচার ছাড়াই, রাতের অন্ধকারে ভ্যানচালক আব্দুস সাত্তারের হাতে ঈদের বিশেষ উপহার সামগ্রী (পোশাক ও খাদ্যদ্রব্য) তুলে দেন ইউএনও।
হঠাৎ রাতে দেশের একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তাকে নিজের দুয়ারে উপহার হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুস সাত্তার। অশ্রুসিক্ত চোখে তিনি বলেন, "আমি কখনো ভাবিনি একজন ইউএনও স্যার রাতের বেলা আমার মতো গরিবের বাড়িতে এসে ঈদ উপহার দিয়ে যাবেন। এই আনন্দ আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না।"
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ জানান, সমাজের বিত্তবান ও সরকারি কর্মকর্তা সবারই উচিত যার যার অবস্থান থেকে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকে প্রকৃত অসহায় মানুষের কাছে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষুদ্র প্রয়াস থেকেই তিনি এই উদ্যোগ নিয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষের কল্যাণে এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।
রাতে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তার এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তা ব্যাপক প্রশংসিত হয়। অনেকে বলছেন, এটি কেবল একটি ঈদ উপহার নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রতি প্রশাসনের দায়িত্বশীলতা ও ভালোবাসার এক অনন্য উদাহরণ।
উপহারের তালিকায় ছিল চাল, চিনি, তেল ও নগদ টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকৌশলী মিলন মিয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো.আমিনুর রশীদ।