হামের উপসর্গ থাকায় চার বছরের শিশু মুসকানকে কুর্মিটোলা হাসপাতাল থেকে পাঠানো হয় ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালে। মায়ের কোলে হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনে ভর্তির অপেক্ষায়। গতকাল দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে
দেশে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হাম পরিস্থিতি। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মারা গেছে ৫১২ শিশু। এর মধ্যে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে ৮৬ শিশুর এবং হামের উপসর্গে মৃত্যু হয়েছে ৪২৬ শিশুর। শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) হাম ও হামের উপসর্গে আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।
এ সময়ে বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য অনুযায়ী—ঢাকায় চারজন, চট্টগ্রামে দুইজন, সিলেটে চারজন, বরিশালে দুইজন (এর মধ্যে একজন হাম শনাক্ত) এবং ময়মনসিংহে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। এদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৪৫ হাজার ১১ শিশু।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধিই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।