—ছবি সংগৃহিত
রাজধানীর পল্লবীতে মাত্র ৭ বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে আজ শুক্রবার (২২ মে) সন্ধ্যায় কালশী রোডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তারা।
সন্ধ্যার পর থেকেই কালশী রোডের ফুলকলি ও আধুনিক মোড় এলাকায় শত শত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন। সড়ক অবরোধের কারণে ওই এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিক্ষোভে নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘হত্যাকারীর ফাঁসি চাই’, ‘আমার বোন খুন হলো কেন?’ এবং ‘অপরাধীর আস্তানা, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’—এমন নানা স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত করে তোলেন। বিক্ষুব্ধ জনতার স্লোগানে পল্লবী ও কালশী এলাকায় এক উত্তাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দেশে বিচারহীনতা ও বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সংস্কৃতির কারণেই বারবার এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটছে। বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশু রামিসা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের সাধারণ আদালতে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে না রেখে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যে রায় কার্যকর করতে হবে। একই সঙ্গে সমাজে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে নির্মমভাবে খুন হওয়া শিশু রামিসা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর তৎপরতা চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেন ওরফে সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিবিড় তদন্ত কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।