—ছবি মুক্ত প্রভাত
সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মহাসড়কে বেপরোয়া গতির আরও একটি নির্মম বলি হলেন ফোয়ারা খাতুন (৫০) নামে এক মধ্যবয়সী নারী। আজ রোববার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সলঙ্গা থানার দাদপুর আন্ডারপাস এলাকায় একটি বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্যাংকলরির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ওই নারী পথচারী।
নিহত ফোয়ারা খাতুন সলঙ্গা থানার দাদপুর মোহনপাড়া এলাকার কোবাদ আলমের স্ত্রী বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়াগামী একটি দ্রুতগতির বিটুমিনবাহী ট্যাংকলরি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে দাদপুর আন্ডারপাস এলাকায় পৌঁছায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বিশাল আকৃতির ট্যাংকলরিটি মহাসড়কের ওপর সজোরে উল্টে যায়। দুর্ভাগ্যবশত, ওই সময় রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন পথচারী ফোয়ারা খাতুন। উল্টে যাওয়া ভারী ট্যাংকলরিটির নিচে তিনি সরাসরি চাপা পড়েন।
বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং তাকে উদ্ধারের আপ্রাণ চেষ্টা চালান। তবে ট্যাংকলরির প্রচণ্ড চাপে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
থমকে গেল মহাসড়ক, উদ্ধার অভিযানে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উল্টে যাওয়া ট্যাংকলরির কারণে উত্তরবঙ্গের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, ফলে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজটের।
খবর পেয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ক্রেনসহ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। যৌথ প্রচেষ্টায় ট্যাংকলরির নিচ থেকে নিহতের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর দুর্ঘটনা কবলিত যানটি সরিয়ে নিলে মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, "নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্যাংকলরিটি উল্টে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।"
এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় দাদপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, দাদপুর আন্ডারপাস এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ভারী যানবাহনগুলো এখানে এসে গতি কমায় না। চালকদের এই বেপরোয়া মনোভাবের কারণে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন হচ্ছে। তারা অবিলম্বে এই স্পটে স্পীড ব্রেকার নির্মাণ, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন।