—ছবি সংগৃহিত
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে কেটে টুকরো টুকরো করার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এই জঘন্যতম অপরাধের বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করতে স্বয়ং মাঠে নেমেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আইন মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আইনমন্ত্রী এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আশ্বাস দিয়েছেন।
শৌচাগারে মিলল খণ্ডিত দেহ, আদালতে গা শিউরে ওঠা জবানবন্দি
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পল্লবীর একটি ফ্ল্যাটের শৌচাগার থেকে শিশুটির বিচ্ছিন্ন মস্তক ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল ভেঙে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা (৩৪) পালিয়ে গেলেও, পুলিশি তৎপরতায় ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও।
গতকাল বুধবার (২০ workday) ঢাকার আদালতে হাজির করা হলে মূল আসামি সোহেল রানা নিজের অপরাধ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি দেয়। সে জানায়, শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে নিজের অপরাধের প্রমাণ মুছে ফেলতে এবং মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে সে লাশটি কেটে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করেছিল। জবানবন্দি শেষে আদালত সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
"আমার ফুটফুটে সন্তানকে ওরা যেভাবে শেষ করে দিল, আমি শুধু খুনিদের ফাঁসি চাই।"
— কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন নিহত শিশুর বাবা।
মামলা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
এই ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারেও ধর্ষণের পর হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল, যা আসামির স্বীকারোক্তিতে সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে। আইনমন্ত্রীর ৭ দিনের এই আলটিমেটাম অপরাধীদের দ্রুত কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।