—ছবি সংগৃহিত
মাঠে নামলেই ঠোঁটের কোণে লেপ্টে থাকে চওড়া হাসি, আর উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে অনবরত বোলার-ফিল্ডারদের জুগিয়ে যান আত্মবিশ্বাস। পুরো সিলেট টেস্ট জুড়েই লিটন দাসের চেনা রূপ ছিল এটিই। তবে এতদিনের চেনা সেই ‘বাংলা’ বুলি আজ হুট করেই বদলে গেল। সিলেটের ২২ গজে আজ লিটনকে কথা বলতে হলো অন্য ভাষায়, আর তার একমাত্র লক্ষ্য ছিলেন পাকিস্তানি ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান।
৪৩৭ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তখন সালমান আগাকে সঙ্গে নিয়ে লিটন-শান্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলছিলেন রিজওয়ান। কিন্তু শুধু ব্যাট হাতেই নয়, রিজওয়ান আজ বাংলাদেশি বোলারদের ধৈর্যের পরীক্ষাও নিচ্ছিলেন অন্যভাবে। বোলার রান-আপ শুরু করার ঠিক আগ মুহূর্তে বারবার হাত তুলে খেলা থামিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। কখনো সাইট স্ক্রিনের সমস্যা, কখনো বা অন্য অজুহাত—রিজওয়ানের এই পুরোনো কৌশল আজ আর মুখ বুজে সহ্য করতে পারেননি লিটন দাস।
মেজাজ হারিয়ে উইকেটের পেছন থেকেই লিটন ছুড়ে দেন প্রশ্ন, ‘বারবার খেলা থামিয়ে দিচ্ছ কেন?’ রিজওয়ানও ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন, তড়িৎ উত্তর দেন, ‘এটা কি তোমার কাজ!’
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে দেখে মাঝমাঠে ছুটে আসতে হয় আম্পায়ার আলাউদ্দিন পালেকারকে। তবে আম্পায়ার এসে পরিস্থিতি শান্ত করলেও টাইগার ক্রিকেটারদের মুখের ভাষা থামানো যায়নি। পুরোটা সময় জুড়েই রিজওয়ানকে মনস্তাত্ত্বিক চাপে রাখার মিশন চালিয়ে যান লিটন-শান্তরা। রিজওয়ানের বারবার কালক্ষেপণ দেখে লিটন টিপ্পনী কেটে বলেন, ‘ভালো অভিনয় করছে!’ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও সুযোগ হাতছাড়া করেননি, রসিকতার সুরে বলে ওঠেন, ‘অতিরিক্ত অভিনয়ের জন্য ৫০ পয়সা কাটা!’
মাঠের এই ‘গরম হাওয়া’ ছুঁয়ে গেছে গ্যালারিকেও। রিজওয়ান যতবার খেলা থামিয়েছেন, সিলেটের দর্শকরা ততবারই দুয়োধ্বনিতে মুখর করে তুলেছেন স্টেডিয়াম।
তবে মাঠের এই স্লেজিং ও কথার লড়াইকে ইতিবাচক চোখেই দেখছেন বাংলাদেশ দলের অজি পেস বোলিং কোচ শন টেইট। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিজের স্বভাবসুলভ হাসিতে তিনি বলেন, "ওদের মধ্যে কী কথা হয়েছে জানি না, তবে আমি বেশ উপভোগ করেছি। আমি তো অস্ট্রেলিয়ান, বুঝতেই পারছেন এসব আমি কতটা পছন্দ করি! তবে হ্যাঁ, মাঠে কেউ যেন সীমা অতিক্রম না করে। টেস্ট ক্রিকেটে এমন একটু আক্রমণাত্মক ভাব আর আবেগ থাকাটা সমর্থকরাও পছন্দ করেন।"
অন্যদিকে পাকিস্তানি শিবিরের ব্যাটিং কোচ আসাদ শফিকও বিষয়টিকে স্বাভাবিক ম্যাচ ডটকম হিসেবেই দেখছেন। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটের চিরায়ত সংস্কৃতির অংশ এটি, এখানে সিরিয়াস কিছু ঘটেনি।
কথার লড়াই কিংবা মাঠের স্লেজিং—কোনো কিছুই অবশ্য রিজওয়ানের মনসংযোগে পুরোপুরি চির ধরাতে পারেনি। সালমান আগার সঙ্গে ১৩৮ রানের প্রতিরোধ গড়ে তোলা জুটিটি ভাঙলেও, এক প্রান্ত আগলে রেখে ১৩৪ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত আছেন রিজওয়ান। আগামীকাল টেস্টের শেষ দিনে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়ের মাঝে সবচেয়ে বড় ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়ে আছেন তিনিই। ৩ উইকেট হাতে রেখে পাকিস্তানের এখনো প্রয়োজন ১২১ রান, আর বাংলাদেশের দরকার অলআউট ম্যাজিক।