—ছবি সংগৃহিত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাত আটটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রেপ্তার
ডিএমপির মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শনিবার রাতে মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের একটি বাসায় সাবেক উপাচার্য হাসিবুর রশীদের উপস্থিতি টের পান স্থানীয় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। এরপর তাঁরা তাঁকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
"অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।"
— জুয়েল রানা, এডিসি (মোহাম্মদপুর অঞ্চল)
পরিচয় ও দায়িত্ব: অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (MIS) বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ২০২১ সালের জুন মাসে তাঁকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের দায়িত্বে ছিলেন।
মামলার রায়: ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পুলিশ ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। এই হত্যাকাণ্ডের পর হাসিবুর রশীদকে অন্যতম আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। গত বছরের (২০২৫) ৩০ জুন তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
ট্রাইব্যুনালের সাজা: চলতি বছরের ৯ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়। এর মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক হাসিবুর রশীদকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
আবু সাঈদ হত্যার পর থেকে অধ্যাপক হাসিবুর রশীদ আত্মগোপনে ছিলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই শীর্ষ আসামির গ্রেপ্তারের মাধ্যমে আবু সাঈদ হত্যার বিচারিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত কার্যকরের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।