—ছবি সংগৃহিত
নির্বাচনী বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব এখন খাদের কিনারায়। গত সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির শোচনীয় পরাজয়ের পর খোদ নিজ দলের ভেতর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি তীব্র হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চারজন সংসদীয় সচিবের আকস্মিক পদত্যাগ এবং ৭০ জনেরও বেশি সংসদ সদস্যের (এমপি) প্রকাশ্য বিদ্রোহে স্টারমারের ক্ষমতা ধরে রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্রোহের শুরু ও নজিরবিহীন বিপর্যয়
গেল সপ্তাহের স্থানীয় নির্বাচনে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে লেবার পার্টি বড় ধরণের ধাক্কা খায়। বিশেষ করে ওয়েলসে ২৭ বছরের ক্ষমতার অবসান এবং ইংল্যান্ডে ১০০০-এর বেশি কাউন্সিলর পদ হারানোয় স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, নাইজেল ফারাজের দল ‘রিফর্ম ইউকে’র অভাবনীয় উত্থান লেবার পার্টির ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংকে বড় ফাটল ধরিয়েছে।
নিজ মন্ত্রিসভায় কোণঠাসা প্রধানমন্ত্রী
সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ও দ্য টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদ্রোহ কেবল সাধারণ এমপিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই; খোদ মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরাও এখন স্টারমারকে বিদায়ের পথ দেখানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।
সাবানা মাহমুদ (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী): প্রধানমন্ত্রীকে তার পদত্যাগের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা 'টাইমটেবিল' নির্ধারণ করতে বলেছেন।
ইভেট্টে কুপার (পররাষ্ট্রমন্ত্রী): একটি সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে মত দিয়েছেন।
ডেভিড লামি (উপপ্রধানমন্ত্রী): একই সুরে পদত্যাগের রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন।
পদত্যাগকারী কর্মকর্তারা তাদের চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলের নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা স্টারমার হারিয়েছেন।
স্টারমারের অনড় অবস্থান
তীব্র চাপের মুখেও সোমবার লন্ডনের ওয়াটারলুতে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কেয়ার স্টারমার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই পদত্যাগ করছেন না। তার যুক্তি, এই মুহূর্তে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনলে দেশ ‘বিশৃঙ্খলা’র মুখে পড়বে। তিনি বলেন, “আমি জানি আমার সমালোচক আছে, কিন্তু আমি নিজেকে আরও সাহসী নেতা হিসেবে প্রমাণ করব।” বিশেষ করে ইউক্রেন ও ইরানের চলমান যুদ্ধাবস্থায় দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাকেই তিনি এখন প্রধান কাজ বলে মনে করছেন।
ভবিষ্যৎ কী?
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ করতে হলে অন্তত ৮১ জন এমপির (মোট এমপির ২০%) সমর্থন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে ৭০ জন এমপি সরব হওয়ায় সেই সংখ্যা স্পর্শ করা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। অনেক কনিষ্ঠ মন্ত্রী দাবি তুলেছেন, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচন করা হোক।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে স্টারমারের জনপ্রিয়তায় বড় ধস নেমেছে। একদিকে দুর্বল অর্থনীতি, অন্যদিকে সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে ঘিরে তৈরি হওয়া কেলেঙ্কারি—সব মিলিয়ে লেবার পার্টি এখন স্টারমারকে সরিয়ে নতুন কাউকে সামনে আনার কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। টালমাটাল এই পরিস্থিতিতে কেয়ার স্টারমার কতদিন টিকতে পারবেন, সেটিই এখন ব্রিটিশ রাজনীতির প্রধান প্রশ্ন।