—ছবি সংগৃহিত
বিদ্যুতের প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধির উৎকণ্ঠার মধ্যেই সাধারণ মানুষের ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিত্যপণ্যের বাজার। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে ডজনে ডিমের দাম বেড়েছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কেবল ডিমই নয়, বৃষ্টির অজুহাতে সবজি এবং পরিবহন ভাড়ার দোহাই দিয়ে মাছ ও মাংসের দামও এখন সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।
ডিমের দামে ‘সেঞ্চুরি’র ঘরে ফেরা
রাজধানীর কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহেও যে ডিমের ডজন ১৩০ টাকা ছিল, তা এখন ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকায় ঠেকেছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে দাম আরও চড়া। বিক্রেতারা বলছেন, সাম্প্রতিক বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে ডিমের ওপর চাপ বেড়েছে। এই সুযোগে পাইকারি ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়াচ্ছেন বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের।
৬০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি
বাজারে এখন ৬০ টাকার নিচে কোনো ভালো সবজি মেলা দুষ্কর। টিসিবির তথ্যমতে, গত এক মাসে বেগুনের দাম ৮২ শতাংশ এবং কাঁচা মরিচের দাম ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতাদের দাবি, ১৯ এপ্রিল জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর ট্রাক ভাড়া বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সবজির খুচরা মূল্যে।
মাছ-মাংসের বাজারে অস্বস্তি
মুরগি ও গরুর মাংসের দামও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে:
ব্রয়লার মুরগি: কেজিপ্রতি ১৯০-২০০ টাকা (আগে ছিল ১৫০-১৬০ টাকা)।
গরুর মাংস: কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৮৫০ টাকায়।
মাছ: ১ কেজি ওজনের রুই মাছের জন্য গুনতে হচ্ছে অন্তত ৩৫০ টাকা। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার মতো সাধারণ মানুষের মাছের দামও কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়েছে।
সয়াবিন তেলের ‘ম্যাজিক’
দীর্ঘদিন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সংকট থাকলেও লিটারে ৪ টাকা দাম বাড়ানোর (১৯৯ টাকা প্রতি লিটার) পর রহস্যজনকভাবে বাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। একে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা।
মূল্যস্ফীতির কবলে জনজীবন
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ হিসাবে, দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি এখন ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ। শীতের সময়ের কিছুটা স্বস্তি কাটতে না কাটতেই মে মাসে এসে জীবনযাত্রার খরচ আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বেসরকারি চাকুরিজীবী অমিত হাসানের কণ্ঠে উঠে এলো সাধারণ মানুষের হাহাকার, "দিন যত যাচ্ছে, আয় না বাড়লেও খরচ বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। এখন ডাল-ভাত খেয়ে টিকে থাকাই দায়।"
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বাজারের সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর তদারকি না থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীরা সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে।