—ছবি সংগৃহিত
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হতে যাচ্ছে ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণ প্রকল্প। আগামী বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রথম পর্যায়ের এই মেগা প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করার কথা রয়েছে। রাজবাড়ীর পাংশায় নির্মিতব্য এই প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা।
প্রকল্পের মূল অবকাঠামো ও লক্ষ্য
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নথি অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় পদ্মা নদীতে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি মূল বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এতে থাকবে:
৭৮টি স্পিলওয়ে ও ১৮টি আন্ডার স্লুইস।
২টি ফিশ পাস (মাছ চলাচলের পথ)।
২৯০ কোটি ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা।
১১৩ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কেন এই ব্যারাজ?
সত্তর দশকে ভারতে ফারাক্কা বাঁধ নির্মাণের ফলে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যে ভয়াবহ পানি সংকট ও নদী শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনেই এই উদ্যোগ। প্রকল্পের মাধ্যমে পদ্মা সংলগ্ন ৫টি নদী (হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী) পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাব
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
কৃষি ও মৎস্য: ২৯ লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে বছরে ২৪ লাখ টন ধান এবং ২.৩৪ লাখ টন অতিরিক্ত মাছ উৎপাদন হবে।
লবণাক্ততা রোধ: সুন্দরবন অঞ্চলে সমুদ্রের নোনা পানির অনুপ্রবেশ ঠেকিয়ে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে।
তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: পানিপ্রবাহ বাড়লে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও অর্থায়ন চ্যালেঞ্জ
প্রকল্পটি মূলত বিগত বিএনপি সরকারের সময় থেকে শুরু হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে দীর্ঘদিন আটকে ছিল। বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের অংশ হিসেবে এটি পুনরায় গ্রহণ করেছে। পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) জানান, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে এত বড় প্রকল্প নিয়ে একনেক সভায় বিস্তারিত আলোচনা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মত
পানিসম্পদ বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত বলেন, “এটি অত্যন্ত পুরনো ও প্রয়োজনীয় প্রকল্প। ভারতের সহায়তার প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিক কারণে তা এগোয়নি। এর উপকারিতা নিয়ে প্রশ্ন নেই, তবে অর্থায়ন এখন বড় চ্যালেঞ্জ।” অন্যদিকে, বুয়েটের অধ্যাপক মাশফিকুস সালেহীন মনে করেন, সুন্দরবনের লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা মোকাবিলায় স্বাদু পানির সরবরাহ বাড়াতে এই বাঁধের কোনো বিকল্প নেই।
প্রকল্পের সময়কাল: ২০২৬ সালে শুরু হয়ে প্রথম পর্যায়ের কাজ ২০৩৩ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।