—ছবি সংগৃহিত
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের ঘাসহীন উইকেটে মিরপুর টেস্টের ভাগ্য এখন পেন্ডুলামের মতো দুলছে। তবে তৃতীয় দিন শেষে কিছুটা স্বস্তিতে স্বাগতিক বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে কোনো উইকেট না হারিয়েই ৭ রান তুলেছে টাইগাররা। ফলে ৩৪ রানের লিড নিয়ে চতুর্থ দিনে ব্যাটিংয়ে নামবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
লড়াই যখন সেয়ানে সেয়ানে
তৃতীয় দিনে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভেঙেছে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে। আজান আওয়াইসের শতক (১০৩) সত্ত্বেও পাকিস্তান ৩৮৬ রানে থামলে প্রথম ইনিংসেই লিড নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। ৫ উইকেট নিয়ে ইনিংসের নায়ক মিরাজ। তবে মিরপুরের পিচে চতুর্থ ও পঞ্চম দিনের ব্যাটিং মানেই হলো আগুনের ওপর দিয়ে হাঁটা।
জয়ের লক্ষ্য কত হওয়া উচিত?
মিরপুরের উইকেটে ইতিহাস বলছে, চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং করা যেকোনো দলের জন্যই দুঃস্বপ্ন। বল যেভাবে নিচু হচ্ছে এবং টার্ন করছে, তাতে বাংলাদেশের লক্ষ্য হওয়া উচিত পাকিস্তানের সামনে ২৯০ থেকে ৩০০ রানের একটি দেয়াল খাড়া করা।
২৫০ রান: লড়াই করার মতো পুঁজি।
৩০০ রান: জয়ের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ লক্ষ্য।
৩৫০ রান: ম্যাচ প্রায় বাংলাদেশের পকেটে।
বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ:
চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনটি হবে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। হাতে ১০ উইকেট থাকলেও বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য হবে ধৈর্য ধরা।
বিশেষজ্ঞ অভিমত: "মিরপুরে চতুর্থ দিনে উইকেট থেকে স্পিনাররা অকল্পনীয় সুবিধা পাবেন। বাংলাদেশ যদি পুরো চতুর্থ দিন ব্যাট করতে পারে এবং লিড ৩০০ পার করতে পারে, তবে তাইজুল ও মিরাজদের সামলানো পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়বে।"
সংক্ষিপ্ত স্কোর (তৃতীয় দিন শেষে):
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩/১০
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬/১০ (লিড ২৭ রান)
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৭/০ (লিড ৩৪ রান)
টাইগার সমর্থকরা এখন তাকিয়ে আছেন তামিম ইকবালের উত্তরসূরিদের ব্যাটের দিকে। কালকের দিনটি ভালো কাটলে মিরপুরের মাঠে আরও একটি স্মরণীয় জয় উদযাপনের অপেক্ষায় থাকবে লাল-সবুজ ক্রিকেট।