—ছবি মুক্ত প্রভাত
পাবনার চাটমোহর ও নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার সীমান্ত দিয়ে বয়ে চলা কমলা নদীর ওপর নির্মিত ফুট ব্রিজটি এখন এলাকাবাসীর জন্য এক মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৯ সালে নির্মিত ৩০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটি দীর্ঘ ২৭ বছরেও কোনো সংস্কার না হওয়ায় বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে ব্রিজ দিয়েই পারাপার হচ্ছে অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্রিজটির একপাশে চাটমোহরের ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাশ গ্রাম এবং অন্যপাশে বড়াইগ্রামের চান্দাই ইউনিয়নের দিয়াড় গাড়ফা গ্রাম। খৈরাশ, দিয়াড় গাড়ফা ছাড়াও রাজাপুর, মুলাডুলি, সানদাই ও সাতইলসহ দুই উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম এই সংযোগ সেতুটি। গত ১০-১২ বছর ধরে ব্রিজের দুই পাশের রেলিং ভেঙে নদীতে পড়ে আছে। কাঠামোর বিভিন্ন স্থানে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। পুরো ব্রিজটি এখন এতটাই নড়বড়ে যে, মানুষ উঠলেই তা দুলতে থাকে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান ও পথচারী রইচ উদ্দিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "ব্রিজটা অনেক পুরনো হয়ে গেছে। রেলিং না থাকায় পার হতে বুক কাঁপে। বিশেষ করে স্কুলগামী শিশু আর বৃদ্ধদের নিয়ে পার হওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির দিনে পিচ্ছিল হয়ে গেলে বিপদ আরও বাড়ে।" ভ্যান চালক ফারুক আহমেদ জানান, ব্রিজটি যেকোনো সময় ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ব্রিজের বেহাল দশা নিয়ে বারবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে জানানো হলেও গত এক দশকে কোনো কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষকে।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা প্রকৌশলী মো. এনামুল কবীর ব্রিজের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, "ব্রিজটির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। জনস্বার্থ বিবেচনা করে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।"
দ্রুত সংস্কার বা নতুন একটি সেতু নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল। ঐতিহ্যবাহী এই অঞ্চলের মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সরকার—এমনটাই প্রত্যাশা ভুক্তভোগী গ্রামবাসীর।