—ছবি সংগৃহিত
সুদূর রাশিয়ার রণক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের তরুণ মো. রিয়াদ রশিদ (২৮)। গত ২ মে রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেন সীমান্তে এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটলেও গতকাল শুক্রবার রাতে নিহতের পরিবার এই দুঃসংবাদ পায়।
নিহত রিয়াদ রশিদ জাফরাবাদ উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক আবদুর রশিদের ছেলে। পাঁচ ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরির উদ্দেশ্যে রাশিয়ায় পাড়ি জমান রিয়াদ। পরবর্তীতে গত ৭ এপ্রিল তিনিসহ আরও বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন (ব্যাচ নং- ৭৩৫)। গত ২৮ এপ্রিল রিয়াদের সঙ্গে তার পরিবারের শেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ মিলছিল না।
শুক্রবার সন্ধ্যায় একই ক্যাম্পে থাকা নরসিংদীর বাসিন্দা লিমন দত্ত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রিয়াদের পরিবারকে মৃত্যুর খবর জানান। ড্রোন হামলায় লিমন নিজেও একটি পা হারিয়েছেন এবং বর্তমানে রাশিয়ার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। লিমনের ভাষ্যমতে, ২ মে’র ওই হামলায় রিয়াদসহ দুই বাংলাদেশি ও একজন নাইজেরিয়ান সৈন্য ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
ছেলের অকাল মৃত্যুর সংবাদে পাথর হয়ে গেছেন রিয়াদের বাবা আবদুর রশিদ। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, "ছেলে সেনাবাহিনীতে যোগদানের কথা আমাদের জানায়নি। জানলে কখনোই তাকে যুদ্ধে যেতে দিতাম না। এখন শুনছি ড্রোন হামলায় আমার ছেলে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, তার লাশেরও কোনো হদিস নেই।"
জাফরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মো. সায়েম বলেন, "ঘটনাটি শোনার পর আমি রিয়াদের বাড়িতে গিয়েছি। পরিবারটি অত্যন্ত সজ্জন। সরকারের কাছে দাবি থাকবে, শোকসন্তপ্ত এই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে অন্তত রিয়াদের লাশের সন্ধান পেতে যেন সহযোগিতা করা হয়।"
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে।
রিয়াদের এমন মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জীবিকার সন্ধানে বিদেশের মাটিতে গিয়ে এভাবে যুদ্ধের বলি হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এলাকাবাসী।