—ছবি মুক্ত প্রভাত
পাবনার বেড়া উপজেলায় চোর শনাক্তের সিসিটিভি ফুটেজ দেখানোকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। গত ৫ এপ্রিল উপজেলার বৃশালিখা গ্রামে সংঘটিত হামলার ঘটনায় জোছনা খাতুনের করা মামলার এক মাস পর আদালতে পাল্টা (কাউন্টার) মামলা দায়ের করেছেন বিবাদী পক্ষ। আদালতের নির্দেশে বেড়া থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করেছে। তবে হামলার শিকার মূল ভুক্তভোগী পরিবার এই পাল্টা মামলাকে 'হয়রানি' ও 'ভিত্তিহীন' দাবি করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
জানা যায়, গত ৫ এপ্রিল বৃশালিখা গ্রামে একটি চুরির ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্ত করেন প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক। ফুটেজ কেন দেখানো হলো—এই ক্ষোভ থেকে প্রতিবেশী আশিক, সাহাদত ও আতিকুলসহ একদল যুবক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আব্দুর রাজ্জাকের ওপর চড়াও হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনায় জোছনা খাতুন বাদী হয়ে ৭ এপ্রিল ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে বেড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন।
এক মাস পর পাল্টা মামলা
আলোচিত এই ঘটনার দীর্ঘ এক মাস পর আনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি আদালতে পাল্টা মামলার আবেদন জানান। বেড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নিতাই চন্দ্র সরকার গণমাধ্যমকে জানান, আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে আনোয়ার হোসেনের মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষোভ ও দাবি
জোছনা খাতুনের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদের ওপর নৃশংস হামলার পরও পুলিশ দীর্ঘ এক মাসে কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে বিচারক তাদের আটক করেন। এখন মামলাটিকে দুর্বল করতে এবং সাক্ষীদের চাপে রাখতে পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে তাদের দাবি।
এমনকি মামলার সাক্ষী নারীদেরও নতুন মামলায় আসামি করা হয়েছে, যা এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মমতাজ উদ্দিনের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। তারা মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে একজন দক্ষ ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
জনমনে প্রশ্ন
চুরির সিসিটিভি ফুটেজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন আইনি লড়াইয়ে মোড় নিয়েছে। এলাকাবাসীর মতে, সত্য ঘটনা আড়াল করতে পাল্টা মামলার সংস্কৃতি সাধারণ মানুষের বিচার পাওয়ার পথকে সংকুচিত করছে। এখন দেখার বিষয়, পুলিশের পুনঃতদন্তে প্রকৃত অপরাধীরা চিহ্নিত হয় কি না।