—ছবি সংগৃহিত
আসন্ন ঈদুল আজহায় জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সোমবার (৪ মে) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, এবার কোনোভাবেই সড়ক, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের ওপর কোরবানির পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট অনুশাসন উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সড়ক, রেলপথ ও নৌপথ—সব ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
নিরাপদ যাতায়াতে কঠোর হুঁশিয়ারি
বৈঠকে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে:
ফেরিঘাট ব্যবস্থাপনা: ফেরিঘাটে বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে তারপর ফেরিতে ওঠা এবং নামার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিটি ঘাটে এ বিষয়ে মাইকিং ও সাইনবোর্ড থাকবে।
বাস চালকদের সতর্কতা: কোনো বাস চালকের গাফিলতি পাওয়া গেলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্রমা সেন্টার সচল: সড়ক দুর্ঘটনা রোধ ও তাৎক্ষণিক চিকিৎসায় মহাসড়কের পাশের ট্রমা সেন্টারগুলোকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও জনবলসহ কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলো ঈদের সাত দিন আগে থেকেই প্রস্তুত থাকবে।
আইনশৃঙ্খলা ও মনিটরিং
ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে এবং মহাসড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশ সদর দপ্তরে একটি বিশেষ ‘মনিটরিং সেল’ গঠন করা হবে। এই সেল সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং জেলা পর্যায়ের তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
চামড়া শিল্প ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
চামড়া শিল্পের সুরক্ষা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার এবার নতুন নিয়ম আরোপ করেছে। কোরবানির পর প্রথম ৭ দিন ঢাকার বাইরে থেকে কোনো চামড়া রাজধানীতে প্রবেশ করতে পারবে না; চামড়া স্থানীয়ভাবেই সংরক্ষণ করতে হবে। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোরবানির পশুর বর্জ্য ১২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।
উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, ধর্মমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রীসহ দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, আইজিপি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে এবার ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ হবে বলে আশা করছে সরকার।