—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালী জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের নবঘোষিত কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলা শহর মাইজদী। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের বিরুদ্ধে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগ এনে তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে ক্ষোভে জেলা কমিটির ১০ জন শীর্ষ নেতা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ
আজ সোমবার দুপুরে জেলা জামে মসজিদের সামনে থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে টাউন হল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ কর্মীরা টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে দীর্ঘ সময় যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়।
অভিযোগের তির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের দিকে
বিক্ষোভ সমাবেশে নেতারা অভিযোগ করেন, ত্যাগী ও রাজপথের কর্মীদের বাদ দিয়ে নাছির উদ্দীন তার ব্যক্তিগত অনুসারীদের দিয়ে কমিটি সাজিয়েছেন।
মোহাম্মদ ওয়াসিম (পৌর ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক): তিনি দাবি করেন, এই কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত কর্মীদের বঞ্চিত করা হয়েছে।
সাহেদ চৌধুরী বাবু (সদর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক): তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের ইতিহাসে এমন বিতর্কিত ও অযোগ্যদের নিয়ে কমিটি আগে কখনও হয়নি।
পারিবারিক পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন: আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, নাছির উদ্দীন আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান এবং তিনি ছাত্রদলকে ধ্বংস করতে চাচ্ছেন। এই সংকট নিরসনে তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
১০ নেতার গণপদত্যাগ
বিক্ষোভ শেষে নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি সাহেদ চৌধুরী বাবু, তারেক নূর, ইয়াসিন আরাফাত ও সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর হোসেনসহ ১০ জন নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। দাবি পূরণ না হলে আগামীতে জেলাজুড়ে হরতালসহ আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পকেট কমিটির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি এনবিএস রাসেল। তিনি বলেন, "সবাইকে একসঙ্গে পদ দেওয়া সম্ভব নয়। যোগ্যতা ও সাংগঠনিক দিক বিবেচনা করেই কমিটি করা হয়েছে।" তিনি নিজের রাজনৈতিক ত্যাগ ও মামলার ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তৃণমূলের এই তীব্র বিরোধ নোয়াখালী ছাত্রদলের সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।