—ছবি মুক্ত প্রভাত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় টানা বৃষ্টিতে চোখের সামনে সোনার ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে আহাদ মিয়া (৫৬) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত আহাদ মিয়া ওই গ্রামের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আহাদ মিয়া এনজিও থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এ বছর ছয় বিঘা জমিতে ব্রি-২৯ ধানের আবাদ করেছিলেন। শনিবার সকালে শ্রমিকদের নিয়ে ধান কাটতে মাঠে যান তিনি। সেখানে গিয়ে দেখেন, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে তার পুরো জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে পচে গেছে। ঋণের বোঝা আর সারা বছরের খোরাকি হারানোর এই দৃশ্য দেখে তিনি মাঠেই জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, লক্ষ্মণ অনুযায়ী ধারণা করা হচ্ছে তিনি তীব্র মানসিক আঘাতে হৃদরোগে আক্রান্ত (স্ট্রোক) হয়ে মারা গেছেন।
নিহতের বড় ভাই ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আহম্মদ হোসেন জানান, "জমির সব ধান নষ্ট হতে দেখে আমার ভাই সহ্য করতে পারেনি। ওখানেই ঢলে পড়ে মারা গেল।" আহাদ মিয়ার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
হাওরজুড়ে হাহাকার:
স্থানীয় কৃষক দুধ মিয়া জানান, টানা বৃষ্টিতে গোয়ালনগর ইউনিয়নের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার বিঘা জমির ধান এখন পানির নিচে। এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ধাক্কায় আহাদ মিয়া ছাড়াও আরও অন্তত তিনজন কৃষক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মাছমা গ্রামের আলফাজ মিয়া নামে এক কৃষক জানান, তার ২০ বিঘা জমিও এখন পানির নিচে। উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কৃষকদের মাঝে এখন আহাজারি চলছে।
প্রশাসনের তৎপরতা ও আশ্বাস:
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইন জানান, মৃত কৃষকের বাড়িতে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, “অনেক কৃষকের ধান নষ্ট হওয়ার খবর পেয়েছি। মৃত কৃষক আহাদ মিয়ার নাম ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।”
এদিকে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য এম এ হান্নান কৃষকের মৃত্যুর খবর শুনে কৃষিমন্ত্রীর সাথে জরুরি আলোচনা করেছেন। মন্ত্রী মহোদয় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা এবং মৃত কৃষকের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।