—ছবি সংগৃহিত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও যুদ্ধের দামামা থামাতে একটি সুনির্দিষ্ট ও ত্রি-স্তরবিশিষ্ট শান্তি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছে ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো—আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা এবং পুরো অঞ্চলে সংঘাতের স্থায়ী অবসান ঘটানো।
আল-জাজিরাসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সূত্রের তথ্যমতে, তেহরানের এই মহাপরিকল্পনায় যেমন অর্থনৈতিক মুক্তির দাবি রয়েছে, তেমনি রয়েছে কৌশলগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা।
প্রথম ধাপ: জলপথের অবরোধ মুক্তি ও মাইন অপসারণ
পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায়ে ইরান সামুদ্রিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পর্যায়ক্রমে উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একইসঙ্গে সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তার স্বার্থে পেতে রাখা মাইনগুলো তেহরান নিজ দায়িত্বে অপসারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে। বিনিময়ে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে, যাতে দেশটির স্থবির অর্থনীতি সচল হতে পারে।
দ্বিতীয় ধাপ: ‘জিরো-স্টোরেজ’ পরমাণু নীতি ও নিরাপত্তা গ্যারান্টি
শান্তি প্রস্তাবের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো পরমাণু কর্মসূচি। ইরান জানিয়েছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করবে, তবে তা হবে আন্তর্জাতিক পরমাণু চুক্তির নির্ধারিত মাত্রা $3.6\%$ এর মধ্যে। ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা ‘জিরো-স্টোরেজ’ নীতি অনুসরণ করবে, অর্থাৎ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনোভাবেই মজুত করা হবে না।
এই ধাপের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো:
-
আক্রমণ বিরতি: যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কোনোভাবেই ইরান বা তার মিত্রদের ওপর হামলা চালাতে পারবে না। বিনিময়ে ইরানও পাল্টা হামলা থেকে বিরত থাকবে।
-
অবকাঠামো সুরক্ষা: কোনোভাবেই ইরানের পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস বা ভেঙে ফেলা যাবে না।
-
আটক অর্থ ফেরত: বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বিপুল পরিমাণ অর্থ পর্যায়ক্রমে মুক্তি দিতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: আরব-ইরান কৌশলগত সংলাপ ও যৌথ নিরাপত্তা
চূড়ান্ত ধাপে ইরান তাদের আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে সরাসরি কৌশলগত সংলাপের প্রস্তাব দিয়েছে। তেহরান চায়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো মিলে একটি নিজস্ব ‘সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা’ গড়ে তুলুক, যেখানে বহিরাগত শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই পুরো অঞ্চলে শান্তি বজায় থাকবে। এই ধাপে ইসরায়েলকেও এই প্রক্রিয়ার আওতাভুক্ত করে স্থায়ী যুদ্ধ অবসানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের অভিমত
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের মাধ্যমে পাঠানো ইরানের এই প্রস্তাব অত্যন্ত কৌশলী। একদিকে ইউরেনিয়াম মজুত না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা পশ্চিমা বিশ্বের শঙ্কা দূর করতে চাচ্ছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংকট কাটাতে মরিয়া তেহরান। এখন দেখার বিষয়, বাইডেন প্রশাসন বা পরবর্তী মার্কিন নেতৃত্ব এই প্রস্তাবকে কতটা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করে।