—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে পূর্ব শত্রুতা ও পারিবারিক বিরোধের জেরে আবু বকর সিদ্দিক (৩৫) নামের এক যুবককে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া যুবকের নাম মো. রাহাত (২২), যিনি মামলার দ্বিতীয় আসামি এবং প্রধান আসামি ওমান প্রবাসী ইয়াসিন আরাফাত সুজনের শ্যালক।
নিহত আবু বকর সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের খোয়াজপুর গ্রামের মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে। তিনি গাজীপুরে তাঁর বড় ভাইয়ের দোকানে কাজ করতেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সিদ্দিক নিজ ঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিলেন। ওই সময় ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রীর সঙ্গে বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সুজন, তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জন যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়। বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে তাকে বেধড়ক পেটানো হয়। পরে মৃত ভেবে তাকে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় সিদ্দিককে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার মো. মুহিত কবীর জানান, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট এলাকা থেকে আসামি রাহাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে রংপুরের কোতোয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন আরাফাত সুজন সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই দেশ ছেড়ে বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে। তাকে আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।