-ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)—দেশের আর্থিক খাতের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক সংস্থার শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে এখন থেকে আর কোনো বয়সসীমা থাকছে না। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে পৃথক দুটি সংশোধনী বিল পাসের মাধ্যমে এই বাধা দূর করা হয়েছে। তবে বিল পাসকে কেন্দ্র করে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ ও পাল্টাপাল্টি দাবির ঘটনা ঘটেছে।
আইনের বড় পরিবর্তন
এতদিন প্রচলিত আইন অনুযায়ী, বিএসইসির চেয়ারম্যান বা কমিশনার পদে সর্বোচ্চ ৬৫ বছর এবং আইডিআরএ-র চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে ৬৭ বছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের সুযোগ ছিল। পাস হওয়া নতুন বিলে এই বয়সসীমা পুরোপুরি বিলুপ্ত করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিল দুটি উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
তপ্ত সংসদ: বিতর্ক ও যুক্তি
বিল পাসের পর অনির্ধারিত বিতর্কে বিরোধী দলের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, বিশেষ কোনো ব্যক্তিকে সুযোগ করে দিতেই কি এই আইন সংশোধন করা হয়েছে? জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, "কোনো পলিসি নয়, বরং কোনো বিশেষ ব্যক্তিকে মাথায় রেখেই কি এই পরিবর্তন? অতীতে বয়স বাড়িয়ে সুবিধা নেওয়ার যে সংস্কৃতি আমরা দেখেছি, তার পুনরাবৃত্তি জাতি চায় না।"
জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, "বিশ্বের কোথাও নিয়ন্ত্রক সংস্থায় বয়সের এমন কড়াকড়ি নেই। আমাদের গড় আয়ু এখন ৭২ বছর। দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলাচ্ছে; এখানে যোগ্য ও দক্ষ মানুষের প্রয়োজন। এতে আবেগ বা রাজনীতির কোনো সুযোগ নেই।"
গভর্নরকে ঘিরে উত্তাপ
বিতর্কের এক পর্যায়ে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে অর্থনৈতিক খাতের কোনো প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হবে না। এই বক্তব্যের সূত্র ধরে বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, গভর্নর বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার বাস্তবায়ন চাইলে বর্তমান গভর্নরের অপসারণ দাবি করেন তিনি।
তবে অর্থমন্ত্রী এই দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেন, "কাউকে সমর্থন করা বা নির্বাচনী কর্মযজ্ঞে সহায়তা করা মানেই তিনি দলীয় লোক নন। বর্তমান গভর্নরের পারফরম্যান্স অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে চমৎকার।"
সংসদীয় প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিলটি তড়িঘড়ি করে পাসের প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদ সদস্যরা বিধি রপ্ত করার আগেই পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিলটি আনা হয়েছে। তবে স্পিকার কায়সার কামাল জানান, বিধিসম্মতভাবেই বিলটি পাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পর্যবেক্ষক মহলের ভাবনা
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বয়সসীমা তুলে দেওয়ায় অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সেবা পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো ঠিকই, তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে যদি রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পায়, তবে আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা বজায় রাখা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।