—ছবি মুক্ত প্রভাত
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) আইন ২০২৬ পাসের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের পরিচয় রাষ্ট্রীয়ভাবে আরও সুসংহত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। তিনি জানান, এই আইন পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কার্যত কোনো বিরোধিতা করেনি, যা পরোক্ষভাবে তাদের যুদ্ধকালীন ভূমিকাকেই স্বীকার করে নেয়।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আইনের সংজ্ঞায় যা বলা হয়েছে
আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন ২০২৬’-এ বীর মুক্তিযোদ্ধার যে সংজ্ঞা নির্ধারণ করা হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে শত্রু ও তাদের দোসরদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন:
"সংশোধনীতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর—তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলামী, আল বদর, আল শামস ও রাজাকার বাহিনীর বিরুদ্ধে যারা সংগ্রাম করেছেন, তাঁদের বীর মুক্তিযোদ্ধা বলা হয়েছে। এই আইন সংসদে পাসের সময় জামায়াতে ইসলামী কার্যত বিরোধিতা করেনি, বরং এনসিপির পক্ষ থেকে লিখিত অনুসমর্থন জানানো হয়েছে।"
আইনি ব্যাখ্যা ও পর্যবেক্ষণ
আসাদুজ্জামান বলেন, আইনের এই ব্যাখ্যা (By operation of law and interpretation) এখন এটি প্রতিষ্ঠিত করে দিল যে, ১৯৭১ সালে কারা খুন, গুম ও ধর্ষণের সাথে জড়িত ছিল এবং কারা অগণিত মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল। এটি এখন আর কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং আইনের অংশ।
পটভূমি: জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল ২০২৬
উল্লেখ্য, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে এই বিলটি পাস হয়। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান বিলটি উত্থাপন করেন। এই সংশোধনীর মাধ্যমে ২০২২ সালের মূল আইনটি পরিবর্তন করে ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’দের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’-দেরও আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেণিভুক্ত ও রাষ্ট্রীয় সম্মান জানানোর বিধান রাখা হয়েছে।
বিএনপি ও নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য
বক্তৃতার শেষাংশে আইনমন্ত্রী বিএনপি ও বিগত নির্বাচনগুলো নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, গণভোটের প্রশ্নাবলীতে বিএনপির অবস্থান ছিল দ্বিধাবিভক্ত। এছাড়া নির্বাচনের সময় ধর্মকে পুঁজি করে ‘বেহেশতের টিকিট’ বিক্রির মতো অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।