—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় পূর্ব বিরোধের জেরে বিএনপি ও জামায়াত ঘরানার দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শাকিল মাহমুদ (৩১) নামে এক যুবদল কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের তাহেরপুর গ্রামের বাহারের দোকান এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনের একটি পুরনো মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের শুরু। সোমবার বিকেলে আনন্দ মিছিলে যাওয়ার পথে আবারও মারধরের ঘটনা ঘটলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছয়ানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে একদল লোক তাহেরপুর এলাকায় গেলে দুই গ্রুপের মধ্যে সংষর্ঘ বেঁধে যায়।
গুলিবিদ্ধ: শাকিল মাহমুদ (৩১), ছয়ানী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি প্রার্থী। তার বুকের বাম পাশে গুলি লেগেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। আহত: বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন (৫০) মাথা ফেটে আহত হয়েছেন। এছাড়া মহর আলী (৫৯), মনোয়ারা বেগম (৫০), মাহফুজুর রহমান (২২), নাসরিন আক্তার (১৮), আলমগীর হোসেন (২৬) ও জহির (৫০) আহত হয়েছেন।
পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:
বিএনপি: ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন চৌধুরী দাবি করেন, জামায়াতের লোকজন তাদের মিছিলে হামলা চালিয়েছে। বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের অভিযোগ, মীমাংসা করতে গেলে রাকিব নামে এক যুবকের গুলিতে শাকিল আহত হন।
জামায়াত: জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি বোরহান উদ্দিন অভিযোগ নাকচ করে বলেন, এটি বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তাদের দলের কেউ এই হামলার সাথে জড়িত নয়।
অভিযুক্ত রাকিব: গুলিবর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে রাকিব দাবি করেন, বিএনপি নেতা আলাউদ্দিনের নিজ হাতের আগ্নেয়াস্ত্র ‘মিস ফায়ার’ হয়ে শাকিল গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।