—ছবি মুক্ত প্রভাত
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন (৬০) নামে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত পৌনে আটটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে এই ঘটনা ঘটে। ২০০১ সালে সরকারের ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে থাকা এই দুর্ধর্ষ অপরাধী দীর্ঘ ২০ বছর পর গত আগস্টে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন।
যেভাবে ঘটল হত্যাকাণ্ড
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, টিটন যখন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় অবস্থান করছিলেন, তখন একটি মোটরসাইকেলে করে কয়েকজন যুবক সেখানে উপস্থিত হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা অত্যন্ত কাছ থেকে টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৫ থেকে ৬টি গুলি বিদ্ধ হয়। এরপর হামলাকারীরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে রাত ৮টা ২৭ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্তে উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য
টিটন হত্যাকাণ্ডের পেছনে অপরাধ জগতের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে পুলিশ। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই হত্যাকাণ্ডে তাঁর নিজের ভগ্নিপতি এবং আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে:
গত বছর সন্ত্রাসী তারিক সাঈফ মামুন হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ইমনের হাত ছিল বলে তথ্য পাওয়া যায়।
টিটনের জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পরিবারের ভেতরেই নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে।
পুলিশ ধারণা করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের শত্রুতা বা আধিপত্য বিস্তারের জেরে এই ‘টার্গেট কিলিং’ হতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য
রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত ব্যক্তি যে শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন, তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, "ঘটনাস্থলে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না, তবে আমরা আশপাশের এলাকার ফুটেজ সংগ্রহ করছি। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।"
কে এই টিটন?
নব্বইয়ের দশকে অপরাধ জগতে হাতেখড়ি হওয়া টিটনের অপরাধের তালিকা দীর্ঘ। ব্যবসায়ী বাবর এলাহী হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি ছিলেন তিনি। ২০০৪ সালে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর ২০১৪ সালে তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন। দীর্ঘ ২০ বছর কারাবাসের পর গত ১২ আগস্ট ২০২৪ তারিখে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পান।
মুক্তির মাত্র কয়েক মাসের মাথায় এই হত্যাকাণ্ড ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পদচারণায় ঢাকার অপরাধজগৎ আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কি না, তা নিয়ে জনমনে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।