—ছবি মুক্ত প্রভাত
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ৭ বছর বয়সি এক শিশুকে হত্যাচেষ্টা মামলায় আসামি করা হয়েছে। ওই শিশু রবিবার নাটোরের বিচারিক আদালতে জামিন নিতে এলে বিষয়টি জানাজানি হয়। বিচারক জামিন দেওয়ার পর ৭ বছরের শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে মামলা দায়ের করায় বাদিকে আদালতে তলব করেছেন।
শিশুকে মামলার আসামি করার বিষয়টি নিয়ে ব্যপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। শিশুটির বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা ধারবারিষা ইউনিয়নের উদবাড়িয়া গ্রামে। সে উদবাড়িয়া সরকারি প্রথামিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বাদি শাহানুর রহমানের বাড়িও একই গ্রামে।
ওই শিশুর পিতা জানিয়েছেন, উপজেলার ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি মারামারি ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলায় ওই শিশুকে আসামি করা হয়। শিশুটির জন্ম হয়েছে ২০২৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মাসে। সে অনুযায়ী তার বয়স হয়েছে ৭ বছর কয়েক মাস। অথচ সেই শিশুকে ২১ বছর দেখিয়ে গুরুদাসপুর থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে। থানা শিশুর বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ায় পুলিশের গাফিলতি নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, গুরুদাসপুর থানার দায়ের হওয়া একটি হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি হিসেবে শিশু আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করে একশিশু। সে বিদ্যালয়ের পোশাক পরে রবিবার দুপুরে আদালতে এসেছিল। আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম আসামির বয়স সম্পর্কে তার আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন। আইনজীবীর দেওয়া তথ্য ও কাগজপত্র পরীক্ষা করে বিচারক আসামির বয়স সাত বছর সাত মাস দুই দিন নির্ধারণ করেন। এ সময় থানার ওসির নিবন্ধিত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে (এফআইআর) শিশুটির বয়স ২১ বছর লেখা থাকা নিয়ে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেন। এতো কম বয়সি শিশুর পক্ষে কাউকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ নিয়ে তিনি প্রশ্ন করেন। পরে তিনি শিশুটিকে ৫০০ টাকা জামানতে একজন আইনজীবীর জিম্মায় জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. শামীম হোসেন জানান, মামলার এজাহারে শিশুটিকে ৩ নম্বর আসামি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূলত ৯ এপ্রিল ধারাবারিষা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী শ্রাবণ সরকারকে মারধরের ঘটনা ঘটে। পরদিন (১০ এপ্রিল) গুরুদাসপুর থানায় ৫জনকে অভিযুক্ত করে হত্যাচেষ্টার একটি মামলা দায়ের করেন শিক্ষার্থী শ্রাবনের পিতা শাহানুর রহমান।
তিনি বলেন, শিশুটির জামিনের জন্য নাটোরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদলতে জামিন আবেদন করেন তিনি। এসময় শিশুটিও আদালতে হাজির ছিল। জামিন আবেদনের সঙ্গে সঙ্গেই বিচারক মো. রফিকুল ইসলাম জামিন মঞ্জুর করেন। শিশুকে আসামি করায় আদালতের মধ্যেই বাদির সমালোচনা শুরু হয়। এক পর্যায়ে বিচারক বাদির বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের আদেশ দেন।
শিশুকে আসামি করার বিষয়টি স্বীকার করে মামলার বাদি শাহানুর রহমান বলেন, তার ছেলে মারধর করায় তিনি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার এজাহারে অনুমান নির্ভর হয়ে ওই ছেলের বয়স ২১ বছর দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ধারাবারিষা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, উদবাড়িয়ায় বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই মামলায় প্রথম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীকে আসামি করা ঠিক হয়নি। তিনি এর নিন্দা জানাচ্ছেন।
নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শরীফুল হক মুক্তা জানান, ৭ শিশুকে মামলার আসামি করা দুঃখজনক। থানা পুলিশ সঠিকভাবে বাছাই করলে হয়তো এই ধরণের ঘটনা ঘটতো না।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, মামলাটির তদন্ত করা করা হচ্ছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ৭ বছরের শিশুটির বিষয়ে দেখা হবে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজরুল আলম বলেন, ৭ বছরের কোনো শিশুকে মামলার আসামি করা হয়েছে কিনা তা তিনি জানেন না। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখছেন।