—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালীন সিলিং ফ্যান খুলে মাথায় পড়ে মো. নিয়ামুল হাসান নামে এক পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তবে আঘাত ও রক্তপাত উপেক্ষা করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েই অদম্য সাহসের সঙ্গে পুরো পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন ওই শিক্ষার্থী।
আজ রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী মদন মোহন উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ১১ নম্বর কক্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত নিয়ামুল হাসান দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং একই এলাকার জাফরুল হুসাইনের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, আজ গণিত পরীক্ষা চলাকালীন প্রায় দেড় ঘণ্টার মাথায় নিয়ামুলের মাথার ওপর ঘুরতে থাকা সিলিং ফ্যানটি হঠাৎ খুলে পড়ে। ফ্যানের পাখার আঘাতে নিয়ামুলের মাথার একপাশ কেটে গিয়ে প্রচুর রক্তপাত শুরু হয়। এ ঘটনায় ওই কক্ষের অন্য পরীক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষা কার্যক্রমে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি মেডিকেল টিম দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে নিয়ামুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়। মাথায় ব্যান্ডেজ নিয়ে নিয়ামুল পুনরায় পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা পোষণ করলে তাকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। চিকিৎসা ও দুর্ঘটনার কারণে যে সময় নষ্ট হয়েছে, তা পুষিয়ে দিতে নিয়ামুলকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় দেওয়া হয়।
বেগমগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম মুক্ত প্রভাত-কে বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে শিক্ষার্থী নিয়ামুল হাসানের মনোবল ছিল প্রশংসনীয়। সে চিকিৎসা নিয়ে পরীক্ষা শেষ করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের প্রতিনিধিরাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং তাঁদের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, কেন্দ্রের কিছু কক্ষ বেশ পুরোনো এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামগুলো যথাযথভাবে সংস্কার করা হয় না। পুনরায় এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকরা।