—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বালুবাহী বেপরোয়া ড্রাম ট্রাকের চাপায় মোহাম্মদ জহির (৪৬) নামের এক সিএনজি অটোরিকশা যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে উপজেলার চরবাটা ইউনিয়নের মৌলভী পাড়া এলাকায় সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জহির লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চর আলেকজান্ডার ইউনিয়নের চর ডাক্তার গ্রামের লাল মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাঁচজন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি অটোরিকশা সোনাপুর থেকে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে মৌলভী পাড়া এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি দ্রুতগামী বালুবাহী ড্রাম ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটিকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই জহিরের মৃত্যু হয় এবং বাকিরা আহত হন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগের গাইড ওয়াল নির্মাণের জন্য বিপুল পরিমাণ বালু ও পিলারের স্তূপ সড়কের ওপর এবং পাশে রাখা হয়েছে। এই স্তূপের কারণে সরু হয়ে যাওয়া সড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর দাবি, গত কয়েক বছরে এই একই স্থানে ছোট-বড় অন্তত ২০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের প্রাণহানি হলো।
দুর্ঘটনার পর ঘাতক ট্রাকটি নিয়ে চালক পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও উত্তেজিত জনতা অন্য একটি বালুবাহী ট্রাক আটক করে ভাঙচুর চালায়।
চরজব্বর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) দেবাশীষ সরকার বলেন, "ঘাতক ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" তবে সড়কে নির্মাণ সামগ্রী রাখার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
সড়কের ওপর অপরিকল্পিতভাবে মালামাল রাখায় ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা অবিলম্বে এসব অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।