—ছবি সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (ইউএসএফ) দুই কৃতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির অকাল এবং নৃশংস মৃত্যুতে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে প্রবাসী সমাজ। নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন পর লিমনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধারের পর এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ তাঁরই সাবেক রুমমেট হিশাম সালেহ আবুঘরবেহকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে।
যেভাবে সামনে এলো সত্য
গত কয়েকদিন ধরেই নিখোঁজ ছিলেন লিমনের রুমমেট ও বন্ধু নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি। লিমনের মরদেহ ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্রাঙ্কল্যান্ড ব্রিজ এলাকা থেকে উদ্ধার করার পর পুলিশ নিশ্চিত হয় যে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্যমতে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিশাম সহযোগিতা করলেও পরে তিনি চুপ হয়ে যান। তবে তদন্ত কর্মকর্তাদের সংগৃহীত তথ্যপ্রমাণ সরাসরি তাকে এই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করে।
খুনি কে এই হিশাম?
২৬ বছর বয়সী হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ একজন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক। তিনি নিজেও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র ছিলেন। পুলিশি নথিতে দেখা গেছে, হিশামের সহিংস আচরণের ইতিহাস দীর্ঘ। এর আগে নিজের মা ও ভাইয়ের ওপর হামলার দায়ে তিনি গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তার ভাই আদালতে জানিয়েছিলেন, হিশাম পরিবারের জন্য এক বড় 'ঝুঁকি'। সেই আশঙ্কাই যেন শেষ পর্যন্ত সত্য হলো দুই নিরপরাধ শিক্ষার্থীর জীবনে।
বিয়ের স্বপ্ন হলো ধূলিসাৎ
লিমন ও বৃষ্টির মধ্যে দীর্ঘদিনের জানাশোনা ছিল এবং শিগগিরই তাঁদের বিয়ের কথা ছিল। ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞানে পিএইচডি করছিলেন লিমন, আর বৃষ্টি ছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মেধাবী গবেষক। লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হলেও বৃষ্টির মরদেহ এখনো খুঁজে পায়নি পুলিশ। তবে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, ফ্লোরিডা পুলিশ তাঁদের বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান পরিস্থিতি
হিশামের বিরুদ্ধে 'ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার' বা পরিকল্পিত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়াও মৃতদেহ অবৈধভাবে সরানো এবং প্রমাণ নষ্টের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার এক বিবৃতিতে বলেন,
"এটি একটি পৈশাচিক ঘটনা যা আমাদের পুরো কমিউনিটিকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা প্রতিটি সূত্র খতিয়ে দেখছি যাতে অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।"
দুই মেধাবী শিক্ষার্থীর এমন করুণ পরিণতিতে ফ্লোরিডাসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বৃষ্টির মরদেহের সন্ধানে এখনো তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ।