—ছবি মুক্ত প্রভাত
পাবনার চাটমোহরে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রির অপরাধে তিন 'মাটি খেকো'কে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের খৈরাস বিল এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় মাটি কাটায় ব্যবহৃত এস্কেভেটর (ভেকু) মেশিনের ৫টি ব্যাটারি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়।
আটককৃতরা হলেন: ১. মোতাহার মোল্লা (৪২), পিতা: শামসুল মোল্লা (ডিবিগ্রাম, চাটমোহর)।
২. মিতারুল ইসলাম (৩২), পিতা: নূর মোহাম্মদ (অরণখোলা, ঈশ্বরদী)।
৩. রায়হান আলী (২৭), পিতা: ইদ্রিস আলী (সরাইকাদি, ঈশ্বরদী)।
ঘটনার বিবরণ: স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চাটমোহরের বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র অবৈধভাবে ফসলি জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি (টপ সয়েল) কেটে ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে আসছিল। এতে ওই অঞ্চলের কৃষি জমিগুলো স্থায়ীভাবে উর্বরতা হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে ডিবিগ্রামের খৈরাস বিল এলাকায় অভিযান চালায় চাটমোহর থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয় অভিযানকারী দল।
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ গোলাম মোস্তফা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, "অবৈধভাবে তিন ফসলি জমির মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা অভিযান চালাই। আটককৃতদের বিরুদ্ধে বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। কৃষি জমি রক্ষায় আমাদের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।"
জনমনে স্বস্তি: এদিকে প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক ভুক্তভোগী কৃষক বলেন, "মাটি খেকোদের যন্ত্রণায় আমরা অতিষ্ঠ ছিলাম। আজ তাদের আটকের খবর শুনে কিছুটা স্বস্তি পেলাম। আমরা চাই প্রশাসন যেন কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে এই অভিযান নিয়মিত চালায়।"
প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে এলাকায় মাটি খেকো চক্রের অন্য সদস্যদের মধ্যে বর্তমানে আতঙ্ক বিরাজ করছে।