—ছবি মুক্ত প্রভাত
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় পৈত্রিক সূত্রের মালিকানাধীন একটি পুকুরকে ‘সরকারি খাস জমি’ দাবি করে দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির একদল নেতার বিরুদ্ধে। পহেলা বৈশাখের দিন উপজেলার রাতোর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বাংলাগড় হাটে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় পুকুর থেকে কয়েক লাখ টাকার মাছ ধরে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী মালিক।
ঘটনার বিবরণ
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার জসাইপাড়া এলাকার মৃত মজির উদ্দীনের ছেলে আ. হক রাতোর ইউনিয়নের নরগাঁও মৌজায় ২ একর ৮ শতক জলকরের মালিক। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এটি ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু গত পহেলা বৈশাখের দিন ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম এবং ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সম্পাদক সুভানসহ তাদের অনুসারীরা পুকুরটিতে লোক নামিয়ে প্রায় ২ লাখ টাকার মাছ ধরে নিয়ে যায়।
বিবাদী ও প্রশাসনের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি রবিউল ইসলাম রুবেল দখল বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "পুকুরটি সরকারি মনে করে সাধারণ মানুষ পহেলা বৈশাখের দিন কিছু তেলাপিয়া মাছ ধরেছে। আমরা দখল করিনি, বরং পুকুরটি সরকারি কি না তা খোঁজ নিচ্ছি।"
তবে রাতোর ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম জানান, "পুকুরটি সরকারি হলে ইজারা দেওয়া হতো। যেহেতু ইজারা দেওয়া হয়নি, সেহেতু এটি এখনও ব্যক্তি মালিকানাধীন হিসেবেই আছে।"
তদন্তে পুলিশের বাধা ও উত্তেজনা
গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে এসআই মিরাজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে তদন্তে গেলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের সামনেই তারা সাক্ষীদের মারধর ও হুমকি প্রদান করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসআই মিরাজ জানান, "তারা আমাদের সামনেই উত্তেজিত হয়ে উঠেছিল, যা আমরা প্রতিহত করেছি এবং বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে।"
দলের অবস্থান
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোখলেসুর রহমান বকুল মজুমদার এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেন:
"বিএনপি কোনো অন্যায় কর্মকাণ্ডের দায়ভার নেবে না। আমরা জবরদখলের বিরুদ্ধে। যদি ওয়ার্ড পর্যায়ের কোনো নেতা দখল বাণিজ্যে জড়ায়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ভুক্তভোগী আ. হক বর্তমানে ন্যায়বিচারের আশায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এলাকাটিতে বর্তমানে এই ঘটনা নিয়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।