—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফসলি জমির টপ সয়েল (উপরিভাগের উর্বর মাটি) কেটে বিক্রি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের উত্তর শাহাপুর গ্রামে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আগে কাবিলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক আহমেদ পুলার উত্তর শাহাপুর এলাকায় একটি ফসলি জমির মাটি ব্যবসার উদ্দেশ্যে কিনে নেন। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর প্রতিপক্ষের বাধার মুখে তিনি মাটি সরাতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পুলার তার অনুসারী মীর হোসেন টিটু, ফকির ও সাইফুলকে নিয়ে পুনরায় মাটি কাটা শুরু করলে স্থানীয় মুজিব, আশ্রাফুল ও তারেক বাধা দেন। এই বাধাকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অগ্নিসংযোগ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
সংঘর্ষ চলাকালীন আহমেদ পুলারের সমর্থকদের তোপের মুখে প্রতিপক্ষ পিছু হটলে তাদের ফেলে যাওয়া একটি এফজেড (FZ) মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এসময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পক্ষ-বিপক্ষের বক্তব্য
অভিযুক্ত পক্ষ: আহমেদ পুলারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
প্রতিপক্ষ: মুজিব নামের একজন দাবি করেন, ফসলি জমির মাটি কাটা বেআইনি হওয়ায় এলাকাবাসী বাধা দিতে গিয়েছিল, কিন্তু তাদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে।
সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বাশার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,"টপ সয়েল বা ফসলি জমির মাটি কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। যারা জমির মালিকের কাছ থেকে মাটি কিনেছে তারা তা নেওয়ার চেষ্টা করলে অন্য পক্ষ বাধা দেয়। এতে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে এবং একপর্যায়ে একটি মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করা হয়।"
বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।