—ছবি মুক্ত প্রভাত
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার (প্রত্যর্পণ) আনুষ্ঠানিক অনুরোধ খতিয়ে দেখছে ভারত সরকার। আজ শুক্রবার নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
প্রত্যর্পণ নিয়ে ভারতের অবস্থান
ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভারত সফর এবং শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের দাবি প্রসঙ্গে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে রণধীর জয়সোয়াল বলেন:
"শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে একটি চলমান বিচারিক ও অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। এ বিষয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।"
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র জানান, ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ প্রতিটি ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের চেয়ে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ভারত বেশি আগ্রহী।
জয়সোয়াল উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে এবং বিদ্যমান প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোগুলোকে (Mechanisms) সচল রাখতে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। খুব শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশে জ্বালানি সরবরাহ অব্যাহত
প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানি সংকটের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র জানান, ভারত নিজের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিবেশীদের পাশে থাকার নীতি বজায় রেখেছে। তিনি তথ্য দেন যে:
গত মার্চ মাসে ভারত বাংলাদেশে ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।
চলতি এপ্রিল মাসেও এই জ্বালানি সরবরাহ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টি ভারতের জন্য একটি আইনি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তবে জ্বালানি সরবরাহ এবং নতুন সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা দুই দেশের স্থিতিশীল সম্পর্কের ইঙ্গিত দিচ্ছে।