—ছবি সংগৃহিত
ইরান যদি প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ শুরু করতে ওয়াশিংটন প্রস্তুত বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এসব কথা বলেন। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
‘ইরানের নৌবাহিনী এখন অস্তিত্বহীন’
হরমুজ প্রণালির বর্তমান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দম্ভোক্তি করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, “বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী এককভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে। কারণ, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই।” তিনি আরও জানান, ইরানকে অর্থনৈতিক ও সামরিকভাবে চাপে রাখতে দেশটির বন্দরগুলোতে অবরোধ বজায় রাখা হবে এবং এটি কতদিন চলবে তার কোনো সময়সীমা নেই।
যুদ্ধের প্রস্তুতি ও চীনের ভূমিকা
হেগসেথ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কূটনৈতিক পথে ইরান যদি চুক্তিতে না আসে, তবে সামরিক শক্তি প্রয়োগই হবে শেষ পথ। তবে এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতির কথা জানান তিনি। হেগসেথ বলেন, “চীন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন তারা ইরানে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করবে না।” বেইজিংয়ের এই অবস্থান তেহরানকে কৌশলগতভাবে আরও একা করে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান
হরমুজ প্রণালিকে ‘উন্মুক্ত’ রাখার বিষয়ে বিশ্বশক্তির সহায়তা চেয়েছে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নির্বিঘ্ন করতে অন্য যেকোনো দেশের অংশগ্রহণকে যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানাবে। মূলত ইরানের প্রভাব খর্ব করে এই অঞ্চলে একটি নতুন নিরাপত্তা বলয় তৈরি করাই ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হেগসেথের এই মন্তব্য তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির একটি কৌশল। একদিকে বন্দর অবরোধের মাধ্যমে অর্থনীতি পঙ্গু করা, আর অন্যদিকে সরাসরি যুদ্ধের হুমকি দিয়ে ইরানকে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ইরান এই চরম হুঁশিয়ারির জবাবে কী পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।