—ছবি মুক্ত প্রভাত
ভোজ্য ও জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও পাচার রোধ এবং আসন্ন পহেলা বৈশাখ ও পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরা সীমান্তে কঠোর নজরদারি শুরু করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। আজ শুক্রবার সাতক্ষীরা শ্যামনগর নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, যশোর দক্ষিণ-পশ্চিম রিজিয়নের অধীনে ৬০০ কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি প্রতিদিন ৪৬৪টি টহল পরিচালনা করছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট ও পাচার রোধে বেনাপোল, ভোমরা ও দর্শনা স্থলবন্দর এলাকায় বিশেষ তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব এলাকায় ৩৩টি বিশেষ নজরদারি অভিযান চালানো হয়েছে। এছাড়া সীমান্তবর্তী ২২টি তেল পাম্পে নিয়মিত নজরদারি ও চেকিং নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, তেল পাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৩২৫টি বিশেষ টহল এবং ৮৯৯টি চেকপোস্ট পরিচালনা করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে ৩১টি টাস্কফোর্স অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ মজুতকৃত তেল জব্দসহ একজনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
গরু পাচার রোধে বিশেষ সতর্কতা
সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে পশু আসা রোধে বিজিবি বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও সন্দেহভাজন চলাচলের ওপর নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি সীমান্তবাসীদের নিয়ে ৮৬৮টি জনসচেতনতামূলক সভা করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ চোরাচালান ও মাদক জব্দ
বিজিবির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত যশোর রিজিয়ন সীমান্তে অভিযান চালিয়ে ৮৮ জন আসামিসহ প্রায় ৫৯ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ দশমিক ২৮ কেজি স্বর্ণ, ৪২টি অস্ত্র ও ১৫২ রাউন্ড গুলি উল্লেখযোগ্য।
মাদকবিরোধী অভিযানেও বড় সাফল্য পেয়েছে বাহিনীটি। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ২২ কোটি ১৩ লাখ টাকার মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ক্রিস্টাল মেথ (আইস), ইয়াবা ও ফেনসিডিল। উল্লেখ্য, গত ২০২৫ সালে এই রিজিয়ন থেকে ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ টাকার চোরাচালান পণ্য এবং ১৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছিল।
নীলডুমুর ১৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. শাহারিয়ার রাজীব বলেন, ‘বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। জ্বালানি তেল পাচারসহ যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সংবাদদাতা