—ছবি সংগৃহিত
বাংলাদেশ রেলওয়ের সক্ষমতা বাড়াতে ভারত থেকে ২০০টি নতুন ব্রডগেজ কোচ (ক্যারেজ) সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের জুন থেকে এসব কোচ পর্যায়ক্রমে রেলের বহরে যুক্ত হবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন রুটে নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।
আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বাদশ দিনে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানান সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লা ও মো. নূরুল ইসলামের পৃথক দুটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান পরিকল্পনা ও সংকটের চিত্র তুলে ধরেন।
ইউরোপীয় ব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্প
সেতুমন্ত্রী জানান, ইউরোপিয়ান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে এই নতুন কোচ সংগ্রহের প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সবগুলো কোচ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। এই নতুন কোচগুলো পাওয়া গেলে সারা দেশে নতুন ট্রেন পরিচালনা এবং রুট নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গতি আসবে।
দক্ষিণাঞ্চলে নতুন ট্রেনের হাতছানি
ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. ইলিয়াস মোল্লার প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা-কমলাপুর থেকে ফরিদপুর ও রাজবাড়ী হয়ে মধুখালী ও গোপালগঞ্জ পর্যন্ত নতুন রেলগাড়ি চালুর বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। তবে এই নতুন রুটে ট্রেন পরিচালনা মূলত নতুন কোচ ও ইঞ্জিন সরবরাহের ওপর নির্ভর করছে। ভারত থেকে কোচগুলো আসা শুরু হলে প্রাপ্তি সাপেক্ষে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ রুট নির্ধারণের চূড়ান্ত উদ্যোগ নেবে।
ইঞ্জিন ও লোকবল সংকটে বন্ধ ৪০ ট্রেন
অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী রেলওয়ের বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, পশ্চিমাঞ্চলে তীব্র ইঞ্জিন, কোচ ও জনবলসংকট রয়েছে। এই সংকটের কারণে বর্তমানে ১৯টি মেইল বা কমিউটার ট্রেন এবং ২১টি লোকাল ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, পর্যাপ্ত ক্রু ও ইঞ্জিনের অভাবে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮টি মালবাহী ট্রেন ‘পুশব্যাক’ বা পিছিয়ে দিতে হচ্ছে। তবে নতুন কোচগুলো যুক্ত হলে এবং ইঞ্জিন ও লোকবল নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে এই সংকটের সমাধান হবে বলে তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়নের রোডম্যাপ তুলে ধরে বলেন, সরকার বর্তমানে বন্ধ থাকা ট্রেনগুলো পুনরায় সচল করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিমুক্ত রেলসেবা পেতে পারে।