—ছবি মুক্ত প্রভাত
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নে সরকারি সড়কের উন্নয়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ ও পুরাতন ইট আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন ওরফে মুকুল সিরাজপুর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তাঁর সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য সৌরভ হোসেন স্বপনের বিরুদ্ধেও অর্থ ভাগাভাগির অভিযোগ উঠেছে।
যেভাবে হলো নয়ছয়
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজপুর ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধানে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিলদার সড়কের ১ হাজার ফুট সংস্কারের জন্য প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সড়কের পুরাতন ইট তুলে নতুন মাটি ফেলে পুনরায় ইটগুলো বিছানোর কথা ছিল।
তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মাত্র কয়েক হাজার টাকা খরচ করে নামমাত্র মাটি ফেলে কাজ শেষ দেখানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বরাদ্দের পুরো বিল তুলে নেওয়া হলেও সড়কটি এখনো ইটসাঁট (হেরাংবোন) করা হয়নি। উল্টো সড়কের পুরাতন ইটের একটি বড় অংশ যুবদল নেতা মুকুলের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
বাড়ির মেঝেতে সড়কের ইট
সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়ক থেকে তোলা ইটের একটি অংশ যুবদল নেতা দেলোয়ার হোসেন মুকুল তাঁর ভাইয়ের গাড়ি রাখার ঘরের মেঝেতে ব্যবহার করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সড়কটিতে ইট বিছানো না হলে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে দেলোয়ার হোসেন মুকুল প্রথমে অস্বীকার করলেও পরে বলেন, ‘কিছু ইট আমার ভাইয়ের গ্যারেজের মেঝেতে ব্যবহার করা হয়েছিল। এখন ওই ইটগুলো ফেরত এনে আবার সড়কে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ তবে অপর অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য সৌরভ হোসেন স্বপনের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিল হলো কাজ ছাড়াই
কাজ শেষ হওয়ার আগেই কীভাবে বিল পরিশোধ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিরাজপুর ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আজগর হোসেন বলেন, ‘পিআইও কর্মকর্তার নির্দেশে ফেব্রুয়ারি মাসেই তাঁদের বিল দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা ইটগুলো পুনরায় বসাননি। আমাদেরও কিছুটা গাফিলতি ছিল, তবে এখন কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।’
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আর্থিক বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে বিধায় বিল ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কাজে যে ঘাটতি রয়েছে, তা এখন পুনরায় সম্পন্ন করিয়ে নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার এবং প্রকল্পের অর্থ তছরুপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শুধু কাজ শেষ করা নয়, বরং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।